মধ্যপ্রদেশে স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়ায় গার্ডিয়ান কল, রিল নিয়ে সতর্ক করেন শিক্ষকরা। বাবা-মা পরেরদিন স্কুলে যেতেই ছাদ থেকে ঝাঁপ জাতীয়স্তরের স্কেটারের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 November 2025 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম (Ratlam) শহরে স্কুলের (school) তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর জখম হল এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। জাতীয় স্তরের স্কেটার (national-level skater) বলে পরিচিত ওই ছাত্রের নাম রিশান কাটারা (Rishan Katara)। শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্কুল চত্বরে মোবাইল ফোন (mobile phone) ব্যবহার নিয়ে অভিভাবককে ডাকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছাত্রটি হঠাৎ করে ছাদে উঠে লাফ দেয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ ও শিক্ষা দফতর জানাচ্ছে, স্কুলে নিজের সঙ্গে মোবাইল রাখার জন্য বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রকে সতর্ক করা হয়, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) রিল (reels) বানানোর অভিযোগ ছিল, সেসব না করার পরামর্শ দেন শিক্ষকরা। শুক্রবার তাঁর বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে। স্কুলে পৌঁছনোর পর কথা শুরু হওয়ার আগেই রিশন আচমকা সরে যায়, সোজা ছাদে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই নীচে ঝাঁপ দেয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, মানসিক চাপ (mental pressure) ও বাবা-মা বকতে পারে, এই ভয়ে অস্থির (emotional distress) হয়ে এমন কাজ করেছে সে।
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত তাকে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে (private hospital) ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছাত্রটির চোয়াল (jaw), দুই পা (legs) এবং মেরুদণ্ডে (spine) গুরুতর চোট রয়েছে। মেরুদণ্ডে ৮ থেকে ১০টি ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রতলামের জিডি হাসপাতালে (GD Hospital) রেফার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, রিশনের অবস্থা এখনও সংকটজনক (critical), তবে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
রতলামের এসডিএম (SDM) অর্চি হরিত (Archi Harit) জানিয়েছেন, ছাত্রটি না কি মাকে বলেছিল যে সে বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘স্কুলে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাও নিয়ে গেছিল।’ অন্যদিকে, রিশনের বাবা জানিয়েছেন, ছেলে লাফ দেওয়ার পর তিনি খবর পান। বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে বা স্কুলের সঙ্গে এখনও কথা বলতে পারিনি। ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার (national competition) জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আট দিন পরই ম্যাচ। স্কুল বরাবরই ওকে খেলাধুলোর (sports) জন্য ছুটি দিত। আগে কোনও অভিযোগও ছিল না। ছেলের সঙ্গে কথা বলে এবং স্কুলের সঙ্গে আলোচনার পরই আসল ঘটনা জানা যাবে।’
পুলিশ (police) ও শিক্ষা দফতর (education department) ইতিমধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে শুরু করেছে। স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের নীতি, ছাত্রটিকে কীভাবে সতর্ক করা হয়েছিল, অভিভাবককে কেন এবং কীভাবে ডাকা হয়েছিল, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।