রাজস্থানে টিফিন টাইমে আচমকা হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ বছরের ছাত্রী প্রাচী কুমাওয়াতের। কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কলকাতার ডাক্তারবাবু?

হৃদরোগে শিশুমৃত্যু।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন খাচ্ছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী, ৯ বছরের প্রাচী কুমাওয়াত। খেতে খেতে হঠাৎই টিফিন বক্সের উপর পড়ে যায় সে, জ্ঞানও হারায়। রাজস্থানের সীকর জেলার দান্তা শহরের এই ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তখনই হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। CPR ও অক্সিজেন দেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। পরে একটি বড় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগেই মৃত্যু হয়েছে প্রাচীর। যদিও তার কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ইতিহাস ছিল না বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবার ময়নাতদন্তে রাজি না হওয়ায় মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। স্কুল ও পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া।
এই মর্মান্তিক ঘটনা এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর। তার কয়েক মাস আগেই উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার ১৪ বছরের ছেলে মোহিত চৌধুরী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সে তখন স্পোর্টস ডে-এর প্রস্তুতির জন্য দৌড়ের অনুশীলন করছিল। তার কয়েকদিন আগেই ৮ বছর বয়সি দীক্ষা খেলার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
মেডিকা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ ক্যাথ ল্যাব, কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার এ বিষয়ে জানালেন, এই ঘটনা গত কয়েক দিনের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে-- এমনটা মনে হওয়ার একটা বড় কারণ হল, ইদানীং মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এই সব ঘটনা অনেক বেশি করে জানাজানি হচ্ছে, রিপোর্টিং হচ্ছে। মানুষের কাছে বেশি পৌঁছচ্ছে ঘটনাগুলি। আগেও এমনটা হতো না তা নয়, তবে সেসব হয়তো বেশি মানুষ জানতেই পারতেন না। এখন জানাজানি, আলোচনা এবং তার জেরে খানিকটা সচেতনতা-- তিনটিই বেড়েছে।
এর পাশাপাশি, এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে আরও জরুরি একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন ডাক্তারবাবু। জানালেন, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া মারফত এই মৃত্যুগুলির কথা অনেক বেশি সংখ্যায় সামনে আসছে ঠিকই, কিন্তু সেই সব ক্ষেত্রে এটা জানা যাচ্ছে না, বা উল্লেখ করা হচ্ছে না, যে মৃত বাচ্চাটির পারিবারিক ইতিহাসে এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা আছে কিনা। এটাও জানা যাচ্ছে না, বাচ্চাটির মা বা বাবার কোনও ধরনের হৃদরোগ রয়েছে কিনা। বা এমনও হতে পারে, মা-বাবার হয়তো কোনও হৃদরোগের ইতিহাস নেই, কিন্তু কাকা বা মামা বা দাদু, ঠাকুমা-- কারও না কারও সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ইতিহাস আছে। সাধারণত বংশগত ভাবে সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি পরবর্তী প্রজন্মে পরিবাহিত হয়ে থাকে।
ডাক্তারবাবুর কথায়, 'হার্ট অ্যাটাক বাচ্চাদের মধ্যে বাড়ছে, এই কথা এখনও সরাসরি বলার সময় আসেনি। এই ঘটনা বেশি করে সামনে আসছে, এমনটা বলা যেতে পারে।'
সেই সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করা খুবই দরকার বলে মনে করিয়ে দিলেন ডাক্তারবাবু। তাঁর কথায়, 'আমার বিশ্বাস, গত কয়েকদিনে উঠে আসা এই প্রতিটি মৃত শিশুর পরিবারেই এই ধরনের মৃত্যুর ইতিহাস আছে। কোনও না কোনও প্রজন্মে এরকম অল্পবয়সে মারা গেছেন কেউ না কেউ। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে ওই শিশুর হার্টে জন্মগত ত্রুটিও থাকতে পারে, যা হয়তো এতদিন ধরা পড়েনি।'
ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী, হার্টের সমস্যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়া, আচমকা হার্ট অ্যাটাক হওয়া-- এটা আলাদা বিষয়। কিন্তু যারা খুব কম বয়সে, বিশেষ করে ১৮ বছরেরও কম বয়সে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের ঘটনার থেকে একটা শিক্ষা নেওয়া খুব জরুরি। তা হল, পারিবারিক ভাবে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের কোনও নজির জানা থাকলে, শিশু বয়স থেকেই হার্টের স্ক্রিনিং জরুরি। একমাত্র তা হলেই এই ধরনের মৃত্যু এড়ানো যেতে পারে, অন্য কোনও উপায় নেই।