বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় চড়াও হয়ে হামলা চালায়।

খালিদ ও ইমাম বর্তমানে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদসভা ও দিল্লি দাঙ্গার চক্রান্তের অভিযোগে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
শেষ আপডেট: 3 October 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার রাতে রাবণ দাহনকে কেন্দ্র করে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রায় চড়াও হয়ে হামলা চালায়। পাল্টা বাম ছাত্রদের অভিযোগ, এবিভিপি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজে লাগাচ্ছে। রাহণ দাহনকে তারা ধর্মবিদ্বেষী করে তুলেছে।
এবিভিপির অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সবরমতী টি-পয়েন্টে এসে হামলা শুরু করে বাম ছাত্ররা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) ও ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস ফেডারেশন (DSF)-এর ছেলেমেয়েরা শোভাযাত্রার পথ অবরুদ্ধ করে দাঁড়ায়। তারা শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে ও গালিগালাজ করতে শুরু করে। এই ঘটনায় এবিভিপির অনেক ছাত্রছাত্রী ঘায়েল হয়েছে বলে সংগঠনের অভিযোগ।
এবিভিপি-র জেএনইউয়ের সভাপতি মায়াঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, এটা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎসবের পরম্পরা ও পড়ুয়াদের বিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এরকমভাবে ধর্মের উপর আঘাত বরদাস্ত করব না, যে কোনও মূল্যে প্রতিহত করব। আর এক হিন্দুত্ববাদী ছাত্রনেতার দাবি, দুর্গা বিসর্জনের সময় এভাবে মেয়েদের উপর ইট-পাথর ছোড়া, গালিগালাজ করা নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক আচরণ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এর জবাবে আইসা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এবিভিপিকে তারা ধর্মের নামে রাজনীতিকে টেনে আনায় দুষ্ট করে। এবিভিপি রাবণ দাহন অনুষ্ঠান নিয়ে বামেদের অভিযোগ, ওরা রাবণকে জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ছবি দিয়ে তুলনা টেনেছে। যাতে মনে হয়, খালিদ ও শরজিল দুজনেই রাবণের প্রতিকৃতি। উল্লেখ্য, খালিদ ও ইমাম বর্তমানে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদসভা ও দিল্লি দাঙ্গার চক্রান্তের অভিযোগে জেল হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
আইসা এক বিবৃতিতে বলেছে, ওরা ইসলাম আতঙ্কে ভুগছে। ধর্মকে রাজনীতির ফায়দা তুলতে ব্যবহার করছে। খালিদ ও ইমামের ছবির জায়গায় কেন ওরা নাথুরাম গডসে, গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের মতো ব্যক্তিদের ছবি লাগাল না। আরএসএস এবং এবিভিপির বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকার ডাক দিয়েছে পড়ুয়াদের।