বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এই চিনের বাঁধ ভারতীয় সীমান্তের ঠিক ৫০ কিমি ওপারে তিব্বতে অত্যন্ত গোপনে মাথা তুলে দাঁড়াতে চলেছে।

চিনের মধ্যে পড়া তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো (ভারতে ঢুকে যার নাম ব্রহ্মপুত্র নদ) নদীর উপর গড়ে উঠছে এই বাঁধ।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহলগাম জঙ্গি হানার প্রতিশোধে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি রদ করে রাখা ভারতের শিরে সর্বনাশ ডেকে আনছে চিন। বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এই চিনের বাঁধ ভারতীয় সীমান্তের ঠিক ৫০ কিমি ওপারে তিব্বতে অত্যন্ত গোপনে মাথা তুলে দাঁড়াতে চলেছে। চিনের মধ্যে পড়া তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো (ভারতে ঢুকে যার নাম ব্রহ্মপুত্র নদ) নদীর উপর গড়ে উঠছে এই বাঁধ। একবার এই বাঁধ তৈরি হয়ে গেলে, ভারতের উত্তর-পূর্বাংশে চিনা ‘জলবোমা’র ঘড়ির কাঁটা বেজিংয়ের হাতে চলে যাবে।
এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে আনুমানিক ১৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্প থেকে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। যার কাছে চিনের তিন গিরিখাদের বাঁধও বামনাকৃতির হয়ে যাবে। ৭,৬৬০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০৭ ফুট উচ্চতার ইয়াংৎসে নদীর উপর নির্মিত এই বাঁধ থেকে বর্তমানে ২২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। নতুন বাঁধের ব্যাপারে চিন অত্যন্ত গোপনীয়তা রেখে পা বাড়াচ্ছে। সীমান্ত ও ভৌগোলিক পরিবেশের দিক থেকে অরুণাচল প্রদেশের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে নির্মিত বাঁধের বিরাটত্ব এবং প্রভাব ভারতের কাছে বিরাট বিপদঘণ্টির শামিল।
অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্দু এ কারণেই অতি সম্প্রতি এই বাঁধকে ভারত বিরোধী জলবোমার ঘড়ি চলতে শুরু করেছে বলে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে সতর্ক করে দেন। এই বাঁধের ফলে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা থাকবে। শুধু তাই নয়, বাস্তুতন্ত্রের উপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। মেডগ প্রদেশের অন্তর্গত এই বাঁধের অনুমোদন হয়েছে ২০২৪ সালে। কিন্তু, তারপর থেকে চিন প্রশাসন এতটুকু স্বচ্ছতা না দেখিয়ে অত্যন্ত গোপনভাবে পা ফেলছে।
অরুণাচল প্রদেশের কাছে এই বাঁধ অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে পারে রাজ্যকে। হঠাৎ জল ছেড়ে দিলে সিয়াং ও ব্রহ্মপুত্রে বান ডাকবে। আবার জল আটকে রেখে সামান্য করে ছাড়লে তাতে অরুণাচলে সঙ্কট তৈরি করবে। চিনকে এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, এই দেশ এখনও আন্তর্জাতিক জলচুক্তিগুলিকে সই করেনি। বিশেষত, নদীর জলবণ্টন নিয়ে চিন রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেল করতে পারে ভারতকে। প্রয়োজনে অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। কারণ, সিন্ধু জলচুক্তি বন্ধ করার পর নয়াদিল্লিকে বেশ কয়েকজন চিনা ও পাক নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বেজিং যদি নদী জলপথের ছিপি আটকে দেয়, তাহলে ভারতও শুকিয়ে মরবে।