Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

২৬ জানুয়ারি ভারতকে শুভেচ্ছা চিন-আমেরিকার, প্রতিরক্ষা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতায় জোর রুবিওর

২৬ জানুয়ারি ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানাল চিন ও আমেরিকা। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন মার্কো রুবিও।

২৬ জানুয়ারি ভারতকে শুভেচ্ছা চিন-আমেরিকার, প্রতিরক্ষা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতায় জোর রুবিওর

মোদী-ট্রাম্প-জিনপিং

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 26 January 2026 11:47

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার ভারতকে শুভেচ্ছা জানাল আমেরিকা (United States) ও চিনের (China)। প্রতিরক্ষা, শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) এবং উদীয়মান প্রযুক্তি (emerging technologies)—এই সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সহযোগিতা চলছে, সে কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক এখন কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, এক শক্তিশালী অংশীদারিত্বও।

একটি বিবৃতিতে রুবিও বলেন, 'আমেরিকার তরফে ভারতীয়দের প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ভারত (India) ও আমেরিকার (United States) সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এই সম্পর্ক কেবল অতীতের বন্ধনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের বহুস্তরীয় সহযোগিতার ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।'

রুবিও মনে করেন, প্রতিরক্ষা (defence), শক্তি (energy), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) এবং উদীয়মান প্রযুক্তি (emerging technologies)—এই সব ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় সরাসরি সুফল দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) অঞ্চলেও ভারত–আমেরিকার যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে ‘কোয়াড’(Quad) অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া (Australia), ভারত (India), জাপান (Japan) ও আমেরিকা (United States)—এই চার দেশের জোটের মাধ্যমে যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা চলছে, তা গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন বিদেশসচিবের স্পষ্ট বক্তব্য, “ইউএস–ইন্ডিয়া সম্পর্ক বাস্তব ফল দিচ্ছে—আমাদের দুই দেশের জন্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও।” এই একটি লাইনের মধ্যেই বর্তমান ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের গুরুত্বটা ধরা পড়ে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা—সব মিলিয়ে এই সম্পর্ক এখন অনেক বেশি গভীর ও কার্যকর।

বিবৃতিতে রুবিও আগামী বছরেও ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। বলেন, “আগামী বছরে আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি ভারতের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, হোয়াইট হাউস (White House) এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট (State Department) ভারতকে কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখছে।

এদিকে, চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং (Xi Jinping) ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'ভারত ও চিন ভাল প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার—এই সম্পর্ক দুদেশের জন্যই সুখের।' সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া (Xinhua)-কে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, গত এক বছরে ভারত–চিন সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত হয়েছে, যা বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিনপিং আরও বলেন, ‘ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ—এই ভাবনাতেই দু’দেশের এগোনো উচিত, পারস্পরিক আদানপ্রদান ও সহযোগিতা বাড়িয়ে একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করতে হবে, যাতে সম্পর্ক থাকে সুস্থ ও স্থিতিশীল।'

তিনি মনে করিয়ে দেন, সীমান্ত ও অতীতের টানাপোড়েন সত্ত্বেও সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সফর, সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া এবং বাণিজ্য–বিনিয়োগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন করে গতি পাচ্ছে।

প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি (January 26) এই দিনটি ভারতীয় সংবিধান (Constitution) কার্যকর হওয়ার স্মৃতি বহন করে। ১৯৫০ সালে এই দিনেই ভারত নিজেকে একটি সার্বভৌম (sovereign), সমাজতান্ত্রিক (socialist), ধর্মনিরপেক্ষ (secular) ও গণতান্ত্রিক (democratic) প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পর সংবিধানভিত্তিক শাসনব্যবস্থার সূচনা—ন্যায় (justice), স্বাধীনতা (liberty), সাম্য (equality) ও ভ্রাতৃত্ব (fraternity)—এই চার মূল স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে।

এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গুরুত্বও কম নয়। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা (Antonio Costa) এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন (Ursula von der Leyen) প্রধান অতিথি (Chief Guests) হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ভারতের কূটনৈতিক মঞ্চে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

দিল্লির কর্তব্য পথ (Kartavya Path)—রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhawan) থেকে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল (National War Memorial) পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক রাজপথ—এবারও সেজে উঠেছে বিশেষ সাজে। দেশের দীর্ঘ যাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য—সব কিছুই ফুটে উঠবে এই শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (Ministry of Defence) জানাচ্ছে, এবারের উদযাপনে থাকছে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-এর ১৫০ বছরের ঐতিহ্য, দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নযাত্রা, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা (military strength), রঙিন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সব মিলিয়ে এক অনন্য সমন্বয়।

এ বছর মোট ৩০টি ট্যাবলো (tableaux) কার্তব্য পথে অংশ নেবে। এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (States/Union Territories) এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক, দফতর ও পরিষেবা বিভাগের (Ministries)। মূল থিম—‘স্বাধীনতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম’ (Swatantrata ka Mantra: Vande Mataram) এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র: আত্মনির্ভর ভারত’ (Samriddhi ka Mantra: Aatmanirbhar Bharat)। এই ট্যাবলোয় একদিকে যেমন ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছরের ইতিহাস তুলে ধরা হবে, তেমনই অন্যদিকে আত্মনির্ভরতার পথে দেশের দ্রুত অগ্রগতির ছবিও ফুটে উঠবে, সঙ্গে থাকবে ভারতের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য।

সব মিলিয়ে, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু একটি জাতীয় উৎসব নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান, কূটনৈতিক শক্তি এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের এক স্পষ্ট প্রতিফলন। আর সেই প্রেক্ষাপটেই আমেরিকার এই শুভেচ্ছা বার্তা ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান গভীরতাকে আরও একবার সামনে এনে দিল।


```