
নাবালিকাদের বিয়ে
শেষ আপডেট: 11 July 2024 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সাতটি রাজ্যে গত তিন বছরে নাবালিকাদের বিয়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও আছে। সাত রাজ্যের মধ্যে বাংলার স্থান তিন নম্বরে। এক ও দুই নম্বরে আছে যথাক্রমে তামিলনাড়ু ও কর্নাটক।
বাংলায় মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ের প্রবণতা নতুন নয়। তাতে লাগাম দিতেই কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করে বর্তমান রাজ্য সরকার। ওই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ১৮ বছরের আগে বিয়ে আটকানো।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্পও আছে। আছে কয়েক হাজার এনজিও'র কর্মসূচি। তাতেও বাংলা সহ বহু রাজ্যে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে আটকানো সম্ভব হয়নি।
তবে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে নাবালিকার বিয়েতে এগিয়ে থাকা সাতটি রাজ্যের পাঁচটি দেশের আর্থিক ভাবে অগ্রবর্তী রাজ্য বলে পরিচিত।
এই রাজ্যগুলি হল কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ। আর্থিকভাবে দুর্বল রাজ্যগুলির মধ্যে আছে শুধু অসম ও বাংলা।
নাবালিকা বিয়ের পিছনে পরিবারের আর্থিক সমস্যাকে বড় কারণ বলে মনে করা হত। কিন্তু বহু রাজ্য ও জেলার ক্ষেত্রে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যেমন, বাংলায় কলকাতা, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলা নাবালিকা বিয়েতে রাজ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। যদিও পূর্ব বর্ধমান চাল উৎপাদনে দেশের মধ্যে এক নম্বর জেলা এবং তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধশালী।
একটি এনজিও'র দায়ের করা মামলায় কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, গত তিন বছরে সবচেয়ে বেশি, ৮৯৬৬ নাবালিকার ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হয়েছে। কর্নাটক ও পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ৮৩৪৮ এবং ৮৩২৪টি।
নাবালিকা বিয়ে আটকানোর কাজে যুক্ত এনজিওগুলির মতে, প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হবে। কারণ, নাবালিকার বিয়ে আটকানোর মতো বিশেষ নজরদারির কোনও ব্যবস্থা দেশে গড়ে তোলা যায়নি।