.webp)
বিচারকদের স্বাধীন ভাবনাচিন্তার সুযোগ তৈরি করে দিন।
শেষ আপডেট: 5 November 2024 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারবিভাগের স্বাধীনতা মানে সবসময় সরকার বিরোধী রায়দান নয়। সু্প্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বললেন একথা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গ্রুপ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন দেশের বিদায়ী প্রধান বিচারপতি। আগামী ১০ নভেম্বর তিনি অবসর নিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের মানুষের উদ্দেশে এও বলেন যে, রায়দানের বিষয়ে বিচারপতিদের উপর আস্থা রাখুন।
প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বলেন যে, তিনি যখন নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পকে খারিজ করেছিলেন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন তখন তাঁকে খুবই 'স্বাধীন' বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, যখন নির্বাচনী বন্ড নিয়ে রায় হবে, তখন তিনি খুবই নিরপেক্ষ-স্বাধীন। কিন্তু কোনও রায় সরকারের পক্ষে গেলে তখন আপনি নিরপেক্ষ থাকবেন না, পরের দ্বারা পরিচালিত হয়ে যাবেন। আমার কাছে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার সংজ্ঞা এটা নয়, বলেন চন্দ্রচূড়।
তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা বলতে আমি বুঝি এবং সেটাই এখনও পর্যন্ত অর্থ যে, সরকার থেকে মুক্ত এক কাঠামো। কিন্তু, সেটাই বিচারব্যবস্থার একমাত্র সংজ্ঞা নয়। আমাদের সমাজ পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এখন অনেক বেশি। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং বৈদ্যুতিন প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহারকারী একটি গোষ্ঠী নিরন্তর আদালতের উপর নিজের কোলে ঝোল টানা রায়ের ক্ষেত্রে প্রভাব চালিয়ে যাচ্ছে।
তাই যখনই আপনি আমার পক্ষে রায় দেবেন না, তখনই আপনি আর নিরপেক্ষ-স্বাধীন থাকবেন না। এখানেই আমার আপত্তি আছে। একজন বিচারকের জ্ঞান-বুদ্ধি-চেতনা মতে রায়দানের স্বাধীনতা থাকা উচিত। তাঁর বিবেক যা বলছে তাই করা উচিত। নিশ্চই বিবেকবুদ্ধি, যা আইন এবং সংবিধান দ্বারা পরিচালিত হয়, বলেন প্রধান বিচারপতি।
দেশের মানুষকে বলেন, আপনারা কার পক্ষে রায় হচ্ছে সেকথা না ভেবে বিচারকদের স্বাধীন ভাবনাচিন্তার সুযোগ তৈরি করে দিন। তাঁরাই ঠিক করবেন বিচারের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব। কার পক্ষে রায় হচ্ছে সেই চিন্তা ত্যাগ করুন। বিচারক ও বিচারপতিদের স্বাধীন চিন্তা করতে দিন।
যে মামলাগুলিতে রায় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত ছিল, আমরা সেগুলির রায় সরকারের বিরুদ্ধেই দিয়েছি। কিন্তু, আইনত যেখানে সরকারের পক্ষে রায় যাওয়ার কথা, সেখানে সরকারের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইনে যদি বলে তাই হবে। একটি অনড়, উজ্জ্বল, মানবহিতের বিচারব্যবস্থাই হবে সেটা, বলেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।