
চেতনা।
শেষ আপডেট: 28 December 2024 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭০০ ফুট গভীর কুয়োর ভিতরে আটকে থাকা তিন বছরের শিশু চেতনাকে উদ্ধারের চেষ্টার (Chetna Rescue ) আজ ষষ্ঠ দিন হলে গেল। রাজস্থানের কোটপুতলির ঘটনায় ওই গভীর কুয়োর ১২০ ফুট নীচে আটকে রয়েছে ছোট্ট মেয়েটি। আজ শনিবার সকাল থেকে ফের সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি টানেল খনন করে চেতনার কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। ৬ জন এনডিআরএফ কর্মীর তিনটি দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
চেতনার পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এই পরিস্থিতিতে। এতদিন ধরে সে না কিছু খেয়েছে, না জল পেয়েছে একফোঁটা। কেবল অক্সিজেন চালিয়ে রাখা হয়েছে ভিতরে। চেতনার মা ধোলি দেবী কেঁদেই চলেছেন। প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়ে এখনও পরিষ্কার কোনও উত্তর মেলেনি।
জানা গেছে, দু'টি করে দল পর্যায়ক্রমে ২০-২৫ মিনিটের জন্য গর্তে নেমে টানেল খনন করছে। পাথর বাধা দিলে ড্রিল মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কীভাবে চেতনার কাছে পৌঁছনো যাবে, কীভাবে তাকে অক্ষত উদ্ধার করা যাবে, কত সময় লাগবে—এসব নিয়ে কোনও তথ্য নেই কারও কাছেই।
চেতনার পরিবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উদ্ধারকাজে দেরি নিয়ে। চেতনার কাকা শুভরাম জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে জেলা কালেক্টর ছুটিতে ছিলেন। তিনি অনেক পরে আসেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসেও পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি তিনি। উদ্ধারকাজে সময়মতো যথাযথ উদ্যোগ নিলে হয়তো এত দেরি হত না বলেই অভিযোগ তাঁদের।
এই ছ’দিনে কী কী ঘটেছে?
২৩ ডিসেম্বর: দুপুর দেড়টার দিকে কোটপুতলির কিরাতপুরা এলাকায় ৭০০ ফুট গভীর বোরওয়েলে পড়ে চেতনা। পরিবারের সদস্যরা মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনে বিষয়টি বুঝতে পারেন। দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হলেও প্রথমদিনের উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
২৪ ডিসেম্বর: পরিবারের অনুমতি নিয়ে চেতনাকে হুক দিয়ে টেনে তুলতে চেষ্টা করা হয়। ১৫ ফুট পর্যন্ত টানার পর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গুরুগ্রাম থেকে পাইলিং মেশিন আনা হয় এবং সমান্তরাল গর্ত খননের প্রস্তুতিও শুরু হয়।
২৫ ডিসেম্বর: সকাল থেকে পাইলিং মেশিন দিয়ে গর্ত খনন শুরু হয়। দুপুর ১টার মধ্যে ৪০ ফুট গভীর টানেল খনন সম্পন্ন হলেও মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। রাতের দিকে নতুন মেশিন আসে এবং বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
২৬ ডিসেম্বর: শক্ত পাথরের বাধায় গর্ত মেশিন আটকে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় পাথর সরানো হয়। সন্ধ্যায় সেফটি পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়।
২৭ ডিসেম্বর: ১৭০ ফুট গভীর গর্তে লোহার পাইপ স্থাপন করা হয়। তবে আবহাওয়ার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়। রাত পর্যন্ত পাইপ ঢালাই ও খননের কাজ চলে।
এর পরে আজ, ২৮ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী শুরু করেছে খননের কাজ। চেতনাকে উদ্ধারের জন্য দিনরাত এক করে কাজ করছে তারা। তবে প্রতিটি মুহূর্তই এখন শিশুটির প্রাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশজুড়ে মানুষ চেতনাকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছেন।