ইসরো জানিয়েছে, সূর্যের এই বিরল বিস্ফোরণের প্রভাব সরাসরি চাঁদের উপর পড়েছিল ২০২৪ সালের ১০ মে।
সেদিন সূর্য থেকে একের পর এক CME চাঁদের দিকে ছুটে আসে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 October 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের রহস্য উদঘাটনে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। ইসরোর (ISRO) চন্দ্রযান-২ অভিযান এবার প্রথমবারের মতো সূর্যের বিস্ফোরণের (Coronal Mass Ejection বা CME) প্রভাব সরাসরি চাঁদের উপর ধরতে সক্ষম হল। শনিবার ইসরো এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণের কথা জানায়।
ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্যের মাধ্যমে চাঁদের পাতলা বায়ুমণ্ডল, যাকে বলা হয় লুনার এক্সোস্ফিয়ার (Lunar Exosphere), তার সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা যাবে। পাশাপাশি সূর্যের বিকিরণ বা মহাকাশের আবহাওয়া চাঁদের পৃষ্ঠে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তাও বুঝতে সাহায্য করবে।
চন্দ্রযান-২ মিশনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
২০১৯ সালের ২২ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে GSLV MkIII-M1 রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২। এর লক্ষ্য ছিল চাঁদের কক্ষপথে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করা এবং চাঁদের পৃষ্ঠে একটি ল্যান্ডার ও রোভার নামানো। মিশনে ছিল মোট ৮টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র (payload)। ২০ অগস্ট ২০১৯, চন্দ্রযান-২ সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে। তবে ৭ সেপ্টেম্বর বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবুও অরবিটার এখনও সম্পূর্ণ সচল এবং চাঁদের চারপাশে ঘুরে তথ্য পাঠাচ্ছে।
সূর্যের বিস্ফোরণের প্রভাব ধরল চন্দ্রযান-২
ইসরোর মতে, চন্দ্রযান-২ অরবিটারে থাকা বিশেষ যন্ত্র CHACE-2 (Chandra’s Atmospheric Compositional Explorer 2) সূর্যের বিকিরণের প্রভাব সরাসরি রেকর্ড করেছে। এই যন্ত্রের মূল কাজ হল চাঁদের বায়ুমণ্ডলে থাকা গ্যাসের ঘনত্ব ও পরিবর্তন বোঝা।
এই করোনাল মাস ইজেকশন (CME) কী ?
সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে যখন প্রচুর পরিমাণে গরম গ্যাস, মূলত হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন আয়ন মহাকাশে ছিটকে বেরিয়ে আসে, তখন সেটাই করোনাল মাস ইজেকশন। এক কথায়, এটি সূর্যের এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ। চাঁদের নিজস্ব কোনও বায়ুমণ্ডল বা চৌম্বকক্ষেত্র নেই, তাই সূর্যের এই বিকিরণ সরাসরি তার উপর পড়ে এবং এর পরিবেশে পরিবর্তন আনে।
ইসরোর পর্যবেক্ষণে কী জানা গেল
ইসরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, CHACE-2-এর তথ্য থেকে দেখা গেছে, সূর্যের বিস্ফোরণ চাঁদের দিকে আঘাত করলে চাঁদের দিনের দিকের বায়ুমণ্ডলের চাপ বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সেই সময়ে চাঁদের আশপাশে থাকা নিরপেক্ষ পরমাণু ও অণুর সংখ্যা হঠাৎ করে অনেক গুণ বেড়ে যায়। ইসরোর মতে, “আগে শুধু বৈজ্ঞানিক অনুমানে এমন প্রভাবের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু চন্দ্রযান-২-এর CHACE-2 যন্ত্র প্রথমবার সেটি বাস্তবে ধরতে সক্ষম হয়েছে।”
কখন ঘটেছিল এই বিরল ঘটনা
ইসরো জানিয়েছে, সূর্যের এই বিরল বিস্ফোরণের প্রভাব সরাসরি চাঁদের উপর পড়েছিল ২০২৪ সালের ১০ মে।
সেদিন সূর্য থেকে একের পর এক CME চাঁদের দিকে ছুটে আসে। ফলে চাঁদের মাটির কিছু কণা ছিটকে উঠে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায় এবং সূর্যালোকিত অংশের বায়ুচাপ আরও বেড়ে যায়।
ইসরো বলেছে, এই পর্যবেক্ষণ শুধু চাঁদের বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের আবহাওয়া বোঝার ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। সূর্যের এমন তীব্র বিকিরণ চাঁদের পরিবেশকে কিছু সময়ের জন্য বদলে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করার সময় এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, জানিয়েছে ইসরোর বিজ্ঞানীরা।