রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের খবর, ৭৫ বছর বয়সি চন্দ্রবাবু দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেলের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

ছবিটি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 28 May 2025 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশের শাসক দল তেলুগু দেশম পার্টির (Telugu Desham Party of Andhra Pradesh) বার্ষিক মহানাডু বা মহা সম্মেলন মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি সভাপতি চন্দ্রবাবু নাইডু (Chandrababu Naidu) এবারের সম্মেলনের জন্য রায়ালসীমার (Rayalaseema region) কাড়াপাকে (Kapada) বেছে নিয়েছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলকায় টিডিপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট ভাল ফল করেছিল। তাছাড়া, নাইডুর প্রধান প্রতিপক্ষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির (Jaganmohan Reddy) রাজনৈতিক ঘাঁটি বলে পরিচিত।
গত বছর লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই অন্ধ্রপ্রদেশে বিধানসভার ভোট হয়। ক্ষমতায় ফেরে টিডিপি। সরকারের বর্ষপূর্তিকে বিবেচনায় রেখে এই সময় দলের মহাসম্মেলন বা মহানাডুর আয়োজন করেছেন চন্দ্রবাবু।
জানা যাচ্ছে, তিনদিনের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বুধবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চন্দ্রবাবু তাঁর ছেলে নারা লোকেশকে তেলুগু দেশম পার্টিক কার্যনির্বাহী সভাপতি করবেন। ২০১৩-তে দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের সময় থেকেই লোকেশ টিডিপির সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বাবার মন্ত্রিসভায় তথ্য প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও মানব সম্পদ বিকাশ দফতরের মন্ত্রী।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের খবর, ৭৫ বছর বয়সি চন্দ্রবাবু দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেলের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্ধ্রে পরবর্তী বিধানসভা ভোট ২০২৯। টিডিপির অন্দরে আলোচনা আছে তার আগে ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসিয়ে দিতে পারেন টিডিপি সুপ্রিমো। কার্যনির্বাহী সভাপতি করে ছেলের হাতে দলের ভার এখনই তুলে দিতে চলেছেন তিনি।
অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেই সে রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের রমরমা চলছে। গত শতকের আটের দশতে চিত্রতারকা এনটি রামরাওয়ের টিডিপি দল গঠনের পর তাঁর গোটা পরিবার রাজনীতিতে জড়িয়ে যায়। রামারাওয়ের মারা যাওয়ার পর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে লড়াইয়ে জিতে যান বড় জামাই চন্দ্রবাবু নাইডু।
রাজ্যভাগের পর তেলঙ্গানা দখল করেন রামারাওয়ের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা কে চন্দ্রশেখর রাও। ২০১৪ থেকে টানা দশ বছর তেলঙ্গানার ক্ষমতায় ছিল কেসিআরের ভারত রাষ্ট্র সমিতি তা তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল।
অভিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ আর দ্বিতীয় রাজ্য অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী হন জগনমোহন রেড্ডি। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএসআর রেড্ডির পুত্র। ওয়াইএসআর ছিলেন অন্ধ্রের অবিসংবাদী কংগ্রেস নেতা। জগনমোহন কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে বাবার নামে দল গড়ে দশ বছর রাজ্য শাসন করেছেন। সেই অন্ধ্রে এবার আর এক নেতা চন্দ্রবাবুর পুত্র নারা লোকেশ রাজনীতির দল ও সরকারের অভিভাবকত্ব এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
দল ও সরকারে মাঝপথে পরিবর্তন আনার ভাবনার পিছনে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ও তাঁর দল বিআরএসের কথাও বিবেচনায় রাখছে টিডিপি। কেসিআর তাঁর ছেলে কেটি রামারাওকে মাঝপথে মুখ্যমন্ত্রী করে দিলে দলের ভরাডুবি হত না বলেই পার্টির বড় অংশের মত। তেলঙ্গানা বিধানসভা হাতছাড়া হওয়ার পিছনে কেসিআরের ব্যক্তিগত ভাবমুর্তির অবনতি অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। অসুস্থতা, সেই সঙ্গে খামখেয়ালি মেজাদের মানুষ কেসিআর দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষ এমনকী পার্টির নেতা-কর্মীদের থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। হায়দরাবাদের সচিবালয় এবং সরকারি বাড়ির পরিবর্তে দিনের পর কাটাতেন নিজের বাগান বাড়িতে।
চন্দ্রবাবু নিজে দলের সভাপতি পদে থেকে আস্তে আস্তে পার্টি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেলের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন। ৪২ বছর বয়সি লোকেশ বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনো শেষ করে এমবিএ করেছেন। গত লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাবা ও ছেলে সমানতালে প্রচার করেন। ভোটের আগে ছেলেকে সামনে রেখে চার হাজার কিলোমিটারের যুব কল্যাণ পদযাত্রা করান চন্দ্রবাবু।