
শেষ আপডেট: 2 February 2024 07:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ঝাড়খন্ডে রাজনৈতিক জল্পনার অবসান। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়ক দলের নেতা চম্পাই সোরেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি সে রাজ্যের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে দেখা করেন। এরপরই চম্পাইকে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বুধবার রাতে ইডির হাতে গ্রেফতার হন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। ইডি তাঁকে গ্রেফতার করার আগে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন হেমন্ত। আর হেমন্ত ইস্তফা দিতেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার বিধায়করা মন্ত্রিসভার প্রবীণ মন্ত্রী চম্পাই সরেনকে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও চম্পাইয়ের কাছে সরকার গড়ার ডাক না আসায় শুরু হয়েছিল নানা জল্পনা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান চম্পাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা আলমগির আলম, সিপিআই (এমএল)-এর বিনোদ সিংহ এবং জেভিএম (বর্তমানে কংগ্রেস) বিধায়ক প্রদীপ যাদব। তখনও কোনও আশ্বাস মেলেনি। এরপর এদিন মধ্যরাতে রাজভবন থেকে চম্পাইকে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ আসে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যপালের সঙ্গে চম্পাইয়ের একটি ছবি সামনে আসে। স্পষ্ট হয়ে যায়, আজ শুক্রবারই শপথ নেবেন চম্পাই সোরেন। ইতিমধ্যে চম্পাইয়ের শপথ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কংগ্রেসের পরিষদীয় নেতা আলমগির আলম।
১০ দিনের মধ্যে চম্পাইকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। আর এই নির্ধারিত সময়সীমাই চম্পাইের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফলেছে। কারণ সাম্প্রতিককালে উত্তরাখণ্ড, অরুণাচল, কর্নাটক কিংবা মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বিধায়ক কেনাবেচা’ অভিযোগ উঠেছে। তাই ১০ দিনের মধ্যে ঝাড়খণ্ডেও তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চম্পাই এদিন রাজভবনে ৪৩ জন বিধায়ককে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাতে জানা যায়, ৪ জন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না চম্পাই। বিজেপির খাতায় ওই চারজন বিধায়ক নাম লেখাতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৮১ আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় শাসক জোটের হাতে রয়েছে ৪৮ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, জেএমএম ২৯, কংগ্রেস ১৬, আরজেডির ১ এবং সিপিআই (লিবারেশন) ১। এর মধ্যে আবার গ্রেফতারির কারকণে বিধানসভায় ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারবেন না হেমন্ত। অন্য দিকে, বিরোধীর আসনে রয়েছেন বিজেপির ২৫, আজসুর ৩, এনসিপি (অজিত) ১ এবং নির্দল ৩ জন অর্থাৎ মোট ৩২ জন বিধায়ক।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার বিধায়ক ‘কেনাবেচা’-র আশঙ্কা থেকেই বিজেপি-বিরোধী জোটের ৩৯ জন বিধায়ককে দু’টি চার্টার্ড বিমানে কংগ্রেস শাসিত তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় খারাপ আবহাওয়া। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বাতিল হয়ে যায় বিমান। রাঁচি থেকে বিধায়কদের বিমান উড়তেই পারেনি। এর খানিক পরেই চম্পইকে আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল।