দিনদুয়েক আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়নি। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের জাহাজকে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
.jpg.webp)
নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 29 March 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia Conflit) আগুন জ্বলছে, তার আঁচ পৌঁছে যাচ্ছে গোটা দুনিয়ায়। জ্বালানির দাম থেকে শুরু করে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা- সব কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান 'মন কী বাত'-এ (Mann Ki Baat) তিনি বললেন, চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক, ১৪০ কোটি ভারতীয় একসঙ্গে থাকলে কোনও সংকটই সামাল দেওয়া অসম্ভব নয়। আর তাই তাঁর প্রথম অনুরোধ, শান্ত থাকুন, সতর্ক থাকুন, গুজবে কান দেবেন না।
নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) স্পষ্ট জানান, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ দেশের ওপর বহুমুখী প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। গুজব বা ভুল তথ্যের ফাঁদে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”
গালফের দেশগুলির কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রবাসী ভারতীয়দের একটা বড় অংশ কর্মসূত্রে ওই অঞ্চলে থাকে। এই কঠিন সময়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গালফ দেশগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের প্রধান জ্বালানির উৎস। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে (Global Market) তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। পেট্রল-ডিজেলের (Petrol-Diesel) সঙ্কট বিশ্বজুড়ে চাপ তৈরি করছে। এই কথা বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা এবং নিজেদের তৈরি ক্ষমতা- এই দুটিই আমাদের এই সংকট মোকাবিলায় শক্তি দিচ্ছে।”
সংকটের সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা (Iran Israel US War) চালায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Furry) এবং ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর অংশ হিসেবে। এতে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)। ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায় আরব দুনিয়ার দেশগুলিতে। এই একমাসব্যাপী যুদ্ধে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে, আর তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz)। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ এটি। এই সরু জলপথ নিয়ন্ত্রণে ইরানের কঠোরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারকে অস্থির করেছে।
দিনদুয়েক আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়নি। ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের জাহাজকে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছে চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারত। ভারতীয় জাহাজগুলি চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়, সেই কারণেই তুলনামূলক জটিল রুট অনুসরণ করতে হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির (West Asia Conflict) মধ্যেও ভারতকে আবারও বিশেষ ছাড় দিল ইরান। হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) প্রায় বন্ধ থাকলেও ভারতের জন্য দরজা খুলে রেখেছে তেহরান। শনিবার আরও দু’টি গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজকে (Indian LPG Tanker) ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পেরোতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, BW ELM এবং BW TYR নামের এলপিজি বোঝাই আরও দুটি ভারতীয় জাহাজ একই সঙ্গে হরমুজ পেরিয়েছে। জাহাজদুটিতে মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টনের বেশি এলপিজি (LPG)। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকদিন সমুদ্রে অপেক্ষায় থাকার পরে অবশেষে পথ পেয়েছে এই জাহাজগুলি।