গুটখা ও পানমশলা শিল্পে কঠোর নজরদারি আনতে শীতকালীন অধিবেশনে পেশ হবে ‘হেলথ সিকিওরিটি টু ন্যাশনাল সিকিওরিটি সেস বিল ২০২৫’।
.jpeg.webp)
গুটখা-পানমশলা
শেষ আপডেট: 1 December 2025 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুটখা ও পানমশলা নিয়ে বড়সড় কড়াকড়ি আনতে চলেছে কেন্দ্র। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উপস্থাপন করবেন হেলথ সিকিওরিটি টু ন্যাশনাল সিকিওরিটি সেস বিল, ২০২৫। এ বার লক্ষ্য শুধুই রাজস্ব নয়, এই শিল্পের অস্বচ্ছ কার্যপদ্ধতি ও বেআইনি কারবারে লাগাম টানা।
সরকারের খসড়া অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সেস আর আগের মতো উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণের উপর নির্ভর করবে না। বরং উৎপাদন ক্ষমতা (production capacity) অনুযায়ী সেস ধার্য করা হবে। অর্থাৎ, কোনও কারখানায় কতটা গুটখা বা পানমশলা তৈরি হল তার হিসাব নয়, কারখানায় লাগানো প্রতিটি মেশিনের ক্ষমতা অনুযায়ী ট্যাক্স দিতে হবে।
এমনকি হাতে বানানো (hand-made) পণ্যও ছাড় পাচ্ছে না। এই খাতে বহু ছোট ইউনিট যে দীর্ঘদিন গ্রে-জোনে কাজ করে এসেছে, সেই জায়গাতেও এবার মাসিক নির্দিষ্ট সেস (fixed monthly cess) দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চলেছে কেন্দ্র।
মাসিক জমা, কঠোর নজরদারি
খসড়া বিল অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে সেস জমা দিতে হবে প্রস্তুতকারীদের। উৎপাদন যতই ওঠানামা করুক, সেস দিতেই হবে। শুধুমাত্র কোনও মেশিন ১৫ দিনের বেশি বন্ধ থাকলে (shutdown provision) কিছুটা ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে।
শিল্পের প্রতিটি সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি নথিভুক্তিকরণ (registration) করতে হবে। প্রতি মাসে রিটার্ন জমা (monthly returns) দেওয়া, কারখানা পরিদর্শন, তদন্ত ও অডিট (inspection, investigation, audit) চালানোর অধিকারও থাকবে অনুমোদিত আধিকারিকদের। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই শিল্পের উপর অস্বচ্ছ কার্যকলাপ (opaque operations) ও ট্যাক্স ফাঁকি (tax evasion) নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়মগুলো সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করবে।
লঙ্ঘনে জেল, দ্বিগুণ সেস বাড়ানোর ক্ষমতা
প্রস্তাবিত আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (imprisonment) ও বড় অঙ্কের জরিমানা (penalty) ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনও প্রস্তুতকারক ইচ্ছা করলে আপিল (appeal) করতে পারবেন, যা সর্বোচ্চ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সরকার প্রয়োজনে সেস দু’গুণ (double cess power) পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। ফলে শিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর কেন্দ্রীয় সরকারের আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে।
শিল্পজগতে আলোড়ন
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, জনস্বাস্থ্য (public health) ও জাতীয় নিরাপত্তা (national security), এই দুই ক্ষেত্রেই তামাকজাত পণ্যের ক্ষতি ও বেআইনি ব্যবসার প্রভাব রয়েছে। তাই তহবিল বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর নিয়ন্ত্রণই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য।
বিলটি সংসদে পাস হলে, গুটখা–পানমশলা শিল্পে এটি হবে সবচেয়ে বড়সড় নিয়ন্ত্রক সংস্কার (regulatory overhaul), বলছে সংশ্লিষ্ট মহল।