
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্মক্ষম বা রোজগারে সক্ষম শিক্ষিত পত্নী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অর্থ দাবি করতে পারেন না। কারণ আইন কখনই কাজের অনীহা বা আলস্যকে প্রশ্রয় দেয় না। একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ এটাই। গত ১৯ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ধারি সিং বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ অর্থাৎ স্ত্রী, পুত্রকন্যা ও বাবা-মায়ের খোরপোশ সংক্রান্ত ধারায় স্বামী-স্ত্রীর সুরক্ষায় সাম্যরক্ষার কথা বলা আছে। স্ত্রী, সন্তান বা পিতামাতার ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য। কিন্তু তা আলসেমিকে উৎসাহ জোগাতে পারে না।
আদালত তার রায়ে আবেদনকারিণী মহিলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। নিম্ন আদালতে মহিলার প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের আর্জি নাকচ হয়ে যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি সিং তাঁর রায়ে বলেন, একজন উচ্চশিক্ষিত স্ত্রী, যাঁর ভাল বেতনের যোগ্য চাকরির অভিজ্ঞতা ও সুযোগ রয়েছে। তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে শুধুমাত্র খোরপোশ আদায়ের জন্য অলস বসে থাকতে পারেন তা উচিত নয়। সুতরাং, বর্তমান মামলায় অন্তর্বর্তী খোরপোশের বিষয়টিকে খারিজ করে দিচ্ছে আদালত। কারণ আদালত দেখতে পাচ্ছে যে, আবেদনকারিণী তাঁর শিক্ষার দ্বারা রোজগার ও ভালভাবে বাঁচার মতো ব্যবস্থা করতে সক্ষম।
আদালত ওই মহিলাকে উৎসাহ দিয়ে চাকরি করার দিকে মন দিতে বলে। স্বয়ম্ভর হয়ে ওঠার জন্য সক্রিয়ভাবে চাকরি খোঁজার পরামর্শ দেয়। বেঁচে থাকার ন্যূনতম দানাপানিহীন, অশিক্ষিত সেইসব স্ত্রীদের মতো তিনি নন। একথা জানিয়ে আদালত বলে আপনি একজন সুশিক্ষিতা অতীতে ভাল চাকরি করা মহিলা, নিজে কাজ করে রোজগারের ব্যবস্থা করে নিন। প্রাক্তন স্বামীর মুখাপেক্ষী থাকবেন কেন!
মামলায় প্রকাশ, ২০১৯ সালে বিয়ের পর দম্পতি সিঙ্গাপুরে চলে যান। মহিলার অভিযোগ, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোক তাঁর উপর অত্যাচার চালাতেন। ২০২১ সালে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার জন্য তাঁকে তাঁর গয়না বেচে দিতে হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি মামার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ২০২১ সালের জুনে তিনি স্বামীর কাছে খোরপোশ চেয়ে মামলা দায়ের করেন।
মহিলার দাবি ছিল, তাঁর কোনও রোজগার ছিল না এবং তিনি বেকার। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী ভাল মাইনের চাকরি করেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। মহিলার স্বামী এই দাবির বিরোধিতা করেন। হাইকোর্ট আর্জি খারিজ করে দিয়ে বলে যেহেতু তিনি উচ্চ শিক্ষিতা এবং উপার্জনে সক্ষম ও যোগ্য তাই খোরপোশের জন্য বেকার বসে থাকা ঠিক নয়। আদালতে প্রমাণিত যে মহিলা অস্ট্রেলিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। বিয়ের আগে দুবাইয়ে ভাল মাইনের চাকরি করতেন।