২২ এপ্রিল দুপুর নাগাদ হঠাৎই কাশ্মীরের বৈসরনে গুলি চালায় জঙ্গিরা। মৃত্যু হয় এক নেপালের নাগরিক-সহ ২৬ জনের। বেছে বেছে হিন্দুদের মারার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দিল্লি।

ব্রাহ্মস (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 11 May 2025 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার জাতীয় প্রযুক্তি দিবসে 'ব্রহ্মস' ক্ষেপনাস্ত্রের নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আগামিদিনে ভারত সামরিক ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হবে বলে বার্তা দেন তিনি। ভারত-পাকিস্থান উত্তেজনার আবহে 'ব্রহ্মসে'র নতুন ইউনিটের এই যাত্রা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেনা সূত্রে খবর, এই ব্রহ্মসই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতের সময় ও পাক আগ্রাসন রুখতে শনিবার ব্যবহার করা হয়েছে।
২২ এপ্রিল দুপুর নাগাদ হঠাৎই কাশ্মীরের বৈসরনে গুলি চালায় জঙ্গিরা। মৃত্যু হয় এক নেপালের নাগরিক-সহ ২৬ জনের। বেছে বেছে হিন্দুদের মারার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দিল্লি। তারপরই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলি চালাতে শুরু করে পাক সেনা। প্রত্যাঘাত স্বরূপ ৬ মে মাঝ রাতে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। পাক অধীকৃত কাশ্মীরে ঢুকে নয় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তারপর থেকে টানা পাঁচদিন নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলি, মর্টার শেল চালিয়েছে পাক সেনা। ড্রোন ও বিমান হামলার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে হামলা প্রতিহত করতে ও জঙ্গি দমনে পাল্টা হামলা চালায় ভারত। শনিবার ভোরেও পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়া হয় সেনার তরফে। সূত্রের খবর, শনিবারই অত্যাধুনিক গাইডেড মিউনিশন, লোইটারিং মিউনিশন এবং এয়ার-টু-সার্ফেস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ভারতীয় সেনা। সম্ভাব্য এই হামলায় ভারতের ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলও ব্যবহার করা হয়েছে।
শনিবার সেনার তরফে জানানো হয়, শুক্রবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে তারা। হামলার লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানের সামরিক কার্যকলাপ, ড্রোন অপারেশন ও এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের মূল ঘাঁটিগুলি। এই হামলায় রফিকি (শোরকট, ঝাং), মুরিদ (চাকওয়াল), নূর খান (চাকলালা, রাওয়ালপিন্ডি), রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর ও চুনিয়ান (কসুর) বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়। পাশাপাশি স্কার্দু, ভোলারি, জ্যাকোবাবাদ ও সরগোধা বিমানঘাঁটিগুলিও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। শিয়ালকোট ও পাশরুরের রাডার স্টেশনগুলিকেও ছেড়ে কথা বলা হয়নি।
এদিকে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য হ্যামার (HAMMER-Highly Agile Modular Munition Extended Range) এবং স্ক্যাল্প (SCALP) ক্রুজ মিসাইল এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্রহ্মস ব্যবহারের কোনও সরকারি স্বীকৃতি এখনও না মিললেও, পর্যবেক্ষকদের ধারণা, গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্রহ্মসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান আগের রাতেই ২৬টিরও বেশি জায়গায় বিমান অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যা ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী দক্ষতার সঙ্গে ব্যর্থ করে দেয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতেও দেখা যায়। শনিবার সকালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের এই আচরণ 'উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক।' ভারত তাই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয় শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো—যেমন রাডার সাইট, কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রভান্ডার।
পাল্টা এই অভিযানের পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একাধিক ভুয়ো দাবি ছড়ানো হয়—যেমন, আদমপুরে ভারতীয় বিমানঘাঁটি ধ্বংস করা, নাগরোটায় ব্রহ্মস ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সেনা আধিকারিক কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানিয়ে দেন, এই সবই ভুল তথ্য। প্রমাণ হিসেবে তাঁরা সময়-স্ট্যাম্পযুক্ত ছবি দেখান, যাতে স্পষ্ট দেখা যায় আদমপুর, সুরাতগড়, ও অন্যান্য ঘাঁটিগুলিতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।