চিকিৎসাশাস্ত্রে কখনও কখনও এমন মুহূর্ত আসে। দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালে (Fortis Hospital) জন্ম নেওয়া এক ‘মাইক্রো প্রিমি’ (micro preemie miracle) শিশুর গল্পও তেমনই।

৯০ দিনের লড়াইয়ে এই শিশুই হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়
শেষ আপডেট: 20 November 2025 21:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রূপঙ্কর বাগচির (Rupankar Bagchi) গাওয়া সেই গানের মতো, জন্মের আগেও জন্ম/ পরেও জন্ম/ তুমিই এমন। যে সময়ে তার জন্মানোর কথা, তার আগেই এসে গেছিল। আবার সেই প্রি-ম্যাচিওর বেবি (Pre Mature Baby) বাঁচবে কিনা বলে যখন সংশয়, সে হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়!
চিকিৎসাশাস্ত্রে কখনও কখনও এমন মুহূর্ত আসে। দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালে (Fortis Hospital) জন্ম নেওয়া এক ‘মাইক্রো প্রিমি’ (micro preemie miracle) শিশুর গল্পও তেমনই। ২৪ সপ্তাহে মাত্র ৬৪০ গ্রাম ওজন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে সে। জন্মের মুহূর্তে কোনও রকম ফুঁপিয়ে বা চেঁচিয়ে কান্না নেই, হার্টবিট অস্বাভাবিক কম, ফুসফুস–কিডনি প্রায় অকর্মণ্য। তবুও অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন চিকিৎসকেরা (Doctors)।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের কথায়, এমন প্রি-ম্যাচিওর বেবি বা সময়ের আগে জন্মানো শিশুর বেঁচে থাকার হার মোটে ১০-১৫ শতাংশ। জন্মের পরপরই তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে (NICU) আনা হয়। উন্নত রিসাসিটেশন, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট, মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে শুরু হয় এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই।
জন্মের সময় ৬৪০ গ্রাম হলেও, প্রথম সপ্তাহে শিশুটির ওজন নেমে আসে ৫৫০ গ্রামে। অপরিণত ফুসফুস তাকে এক মুহূর্তও নিজে থেকে শ্বাস নিতে দিচ্ছিল না। কিডনিও স্বাভাবিক কাজ করছিল না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, হৃদ্যন্ত্রের অস্থিরতা, মোট কথা প্রতিটি বিপদই ছিল প্রাণঘাতী।
শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক রাহুল নাগপাল ও শ্রদ্ধা জোশীর নেতৃত্বে এক বিশেষজ্ঞ দল। দীর্ঘমেয়াদি উন্নত ভেন্টিলেটর সাপোর্ট, সূক্ষ্ম তরলবিন্যাস, সংক্রমণ রোধে কঠোর নজরদারি, ধাপে ধাপে এগিয়েছে পুরো চিকিৎসা।
ফুসফুসের অপরিণত বিপত্তি কাটাতে ও হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ওষুধই দেওয়া হয়েছে নির্ভুল পরিমাপে। একই সঙ্গে কিডনির দুর্বলতাও সামলাতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। শিশু বিশেষজ্ঞ ও নার্সিং দলের ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফেরায় শিশুটির দেহে।
চিকিৎসক রাহুলের কথায়, “২৪ সপ্তাহে জন্মানো নবজাতকের বেঁচে থাকার হার মাত্র ১০-১৫%। প্রতি গ্রাম ওজন বাড়া ছিল আমাদের কাছে নতুন আশার সঞ্চার। সংক্রমণ আর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ রোধ করা ছিল সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই শিশুর বেঁচে ওঠা প্রমাণ করে, সময়ের মধ্যে চিকিৎসা, নিখুঁত পরিকল্পনা ও টিমওয়ার্ক কী করতে পারে।”
আরও এক চিকিৎসক, শ্রদ্ধা জোশীর কথায়, “যেসব জটিলতার মুখোমুখি বাচ্চাটি তথা আমরা হয়েছি, তাতে প্রত্যেকটা দিনই ছিল সংগ্রামের। কিন্তু নার্সিং স্টাফের অনবরত পরিশ্রম ও দলের একসঙ্গে কাজ করাই সিশুটিকে বাড়ি ফেরানোর পথ খুলে দিয়েছে।”
৯০ দিন ধরে NICU-তে থাকার পর শিশুটি বাড়ি ফেরে ১.৮ কেজি ওজন নিয়ে। এখন তার বয়স ছ’মাস। ওজন বেড়ে হয়েছে ৬ কেজি। চোখ, কান, মাথা— সব পরীক্ষার রিপোর্টই নরমাল এসেছে। চিকিৎসকেরা বলাবলি করছেন, এ এক নিখাদ আশা ও লড়াইয়ের গল্প, যেখানে জীবনের সূক্ষ্মতম স্ফুলিঙ্গও জ্বালিয়ে দিতে পারে আলোর প্রদীপ।