Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ‘তাহলে আমার তত্ত্ব ভুল ছিল না!’ বৈভবের বিরল ব্যর্থতা দেখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ইরফানের I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত

২৪ সপ্তাহের প্রি ম্যাচিওর বেবি, ওজন ৬৪০ গ্রাম, ৯০ দিনের লড়াইয়ে হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়

চিকিৎসাশাস্ত্রে কখনও কখনও এমন মুহূর্ত আসে। দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালে (Fortis Hospital) জন্ম নেওয়া এক ‘মাইক্রো প্রিমি’ (micro preemie miracle) শিশুর গল্পও তেমনই।

২৪ সপ্তাহের প্রি ম্যাচিওর বেবি, ওজন ৬৪০ গ্রাম, ৯০ দিনের লড়াইয়ে হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়

৯০ দিনের লড়াইয়ে এই শিশুই হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 20 November 2025 21:37

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রূপঙ্কর বাগচির (Rupankar Bagchi) গাওয়া সেই গানের মতো, জন্মের আগেও জন্ম/ পরেও জন্ম/ তুমিই এমন। যে সময়ে তার জন্মানোর কথা, তার আগেই এসে গেছিল। আবার সেই প্রি-ম্যাচিওর বেবি (Pre Mature Baby) বাঁচবে কিনা বলে যখন সংশয়, সে হয়ে উঠল মৃত্যুঞ্জয়!

চিকিৎসাশাস্ত্রে কখনও কখনও এমন মুহূর্ত আসে। দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালে (Fortis Hospital) জন্ম নেওয়া এক ‘মাইক্রো প্রিমি’ (micro preemie miracle) শিশুর গল্পও তেমনই। ২৪ সপ্তাহে মাত্র ৬৪০ গ্রাম ওজন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে সে। জন্মের মুহূর্তে কোনও রকম ফুঁপিয়ে বা চেঁচিয়ে কান্না নেই, হার্টবিট অস্বাভাবিক কম, ফুসফুস–কিডনি প্রায় অকর্মণ্য। তবুও অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন চিকিৎসকেরা (Doctors)।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের কথায়, এমন প্রি-ম্যাচিওর বেবি বা সময়ের আগে জন্মানো শিশুর বেঁচে থাকার হার মোটে ১০-১৫ শতাংশ। জন্মের পরপরই তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কক্ষে (NICU) আনা হয়। উন্নত রিসাসিটেশন, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট, মিনিটে মিনিটে পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে শুরু হয় এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই।

জন্মের সময় ৬৪০ গ্রাম হলেও, প্রথম সপ্তাহে শিশুটির ওজন নেমে আসে ৫৫০ গ্রামে। অপরিণত ফুসফুস তাকে এক মুহূর্তও নিজে থেকে শ্বাস নিতে দিচ্ছিল না। কিডনিও স্বাভাবিক কাজ করছিল না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, হৃদ্‌যন্ত্রের অস্থিরতা, মোট কথা প্রতিটি বিপদই ছিল প্রাণঘাতী।

শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক রাহুল নাগপাল ও শ্রদ্ধা জোশীর নেতৃত্বে এক বিশেষজ্ঞ দল। দীর্ঘমেয়াদি উন্নত ভেন্টিলেটর সাপোর্ট, সূক্ষ্ম তরলবিন্যাস, সংক্রমণ রোধে কঠোর নজরদারি, ধাপে ধাপে এগিয়েছে পুরো চিকিৎসা।

ফুসফুসের অপরিণত বিপত্তি কাটাতে ও হৃদ্স্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি ওষুধই দেওয়া হয়েছে নির্ভুল পরিমাপে। একই সঙ্গে কিডনির দুর্বলতাও সামলাতে হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। শিশু বিশেষজ্ঞ ও নার্সিং দলের ২৪ ঘণ্টার নজরদারি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফেরায় শিশুটির দেহে।

চিকিৎসক রাহুলের কথায়, “২৪ সপ্তাহে জন্মানো নবজাতকের বেঁচে থাকার হার মাত্র ১০-১৫%। প্রতি গ্রাম ওজন বাড়া ছিল আমাদের কাছে নতুন আশার সঞ্চার। সংক্রমণ আর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ রোধ করা ছিল সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই শিশুর বেঁচে ওঠা প্রমাণ করে, সময়ের মধ্যে চিকিৎসা, নিখুঁত পরিকল্পনা ও টিমওয়ার্ক কী করতে পারে।”

আরও এক চিকিৎসক, শ্রদ্ধা জোশীর কথায়, “যেসব জটিলতার মুখোমুখি বাচ্চাটি তথা আমরা হয়েছি, তাতে প্রত্যেকটা দিনই ছিল সংগ্রামের। কিন্তু নার্সিং স্টাফের অনবরত পরিশ্রম ও দলের একসঙ্গে কাজ করাই সিশুটিকে বাড়ি ফেরানোর পথ খুলে দিয়েছে।”

৯০ দিন ধরে NICU-তে থাকার পর শিশুটি বাড়ি ফেরে ১.৮ কেজি ওজন নিয়ে। এখন তার বয়স ছ’মাস। ওজন বেড়ে হয়েছে ৬ কেজি। চোখ, কান, মাথা— সব পরীক্ষার রিপোর্টই নরমাল এসেছে। চিকিৎসকেরা বলাবলি করছেন, এ এক নিখাদ আশা ও লড়াইয়ের গল্প, যেখানে জীবনের সূক্ষ্মতম স্ফুলিঙ্গও জ্বালিয়ে দিতে পারে আলোর প্রদীপ।


```