আট মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা ভাল ভাবে মেনে নেয়নি তার পরিবার।

শেষ আপডেট: 7 June 2025 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মীরাটে (Meerat) ফের ভয়াবহতার ছায়া। স্ত্রীর হাতে নেভি অফিসারের খুনের ঘটনার রেশ এখনও মিলিয়ে যায়নি, তার আগে আবারও নৃশংসতা দেখল যোগীরাজ্য। ১৭ বছরের এক কিশোরীর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পর তার মা সহ পরিবারের চার সদস্যকে শুক্রবার গ্রেফতার করল পুলিশ। জানা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে এক অপ্রাপ্তবয়স্কও।
এই ঘটনায় রাকেশ দেবী (৪০), মনু (২৬), কমল সিং (৫৬), সমর সিং (৫৪) এবং এক ১৪ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে এই গ্রেফতারের তালিকায়। গৌরব নামের আরেকজন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মীরাটের পুলিশ সুপারের কথায়, ‘ওই কিশোরীকে প্রথমে দমবন্ধ করে খুন করা হয়। তারপর এক বোল্ট কাটার দিয়ে ধড় থেকে মাথা আলাদা করে তাকে খুন করা হয়েছে। ২৮ মে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলার সময় ধরা পরে যায় মেয়েটি, তখন তার মা রাকেশ দেবী এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে তাকে খুন করে।’
পুলিশ জানিয়েছে, দেহ যাতে কোনভাবেই শনাক্ত করা না যায়, ধড় অর্থাৎ শরীরের নীচের অংশ বাহাদুরপুরের ক্যানালে কাপড়ে জড়িয়ে ফেলে দেওয়া হয়। মাথাটাকে ছুড়ে ফেলা হয় গঙ্গা ক্যানালে। সেই কাটা মাথা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন স্থানীয় এক চাষি প্রথম ক্যানলে দেহটি দেখতে পায়। জামাকাপড় দেখে মৃতাকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তার প্রেমিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা এবং যাবতীয় প্রমাণ উদ্ধার করেছে। দেহ উদ্ধারের পর ১০৩ (১)–এ খুন এবং ২৩৮ ধারায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে পারতাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
যদিও পরিবার প্রথমে পুলিশকে তদন্তে ভুল দিকে চালনা করার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় ওই কিশোরী বুধবার সকালে স্কুলে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু সন্ধে পর্যন্ত না ফেরায় থানায় মিসিং ডায়েরি করে তারা।
মৃতার বাবা সিআরপিএফে রয়েছেন এবং ছত্তীসগড়ে কর্মরত থাকার কারণে এখনও তিনি পরিবারের এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আট মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা ভাল ভাবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। তার জেরেই হয়তো খুন হতে হয়েছে ওই কিশোরীকে।