পুলওয়ামার ওই জায়গায় এই তিন জঙ্গি ছাড়াও অনেকে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেজন্য গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। অপারেশন চলছে।

ড্রোনের ছবি
শেষ আপডেট: 15 May 2025 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার ভোরে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় (Pulwama) নতুন করে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই হয় ভারতীয় সেনার (Indian Army)। নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁদে পড়েছিল তিন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিন জঙ্গিকেই নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে। তাদের নাম আসিফ আহমেদ শেখ, আমির নাজির ওয়ানি এবং ইয়াওয়ার আহমদ ভাট। প্রত্যেকেই পুলওয়ামার বাসিন্দা ছিল। ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের ছবি উঠে এসেছে ড্রোনে। কীভাবে জঙ্গিরা গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, কীভাবে গুলি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল, তা দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট।
সংঘর্ষের আগে ও সংঘর্ষ চলাকালীন কিছু ছবি ড্রোনের মাধ্যমে ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে একটি নির্মীয়মাণ ভবনের বেসমেন্টে লুকিয়ে রয়েছে, রাইফেল হাতে। নিরাপত্তাবাহিনী বিশেষ সূত্রে ওই এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পায়। ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন’ শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এই সময়ই জঙ্গিরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে, ফলে শুরু হয় প্রবল গুলির লড়াই।
পুলওয়ামার ওই জায়গায় এই তিন জঙ্গি ছাড়াও অনেকে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেজন্য গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। অপারেশন চলছে।
এই এনকাউন্টারের ঠিক দু'দিন আগে কাশ্মীরের সোপিয়ানে তিন লস্কর জঙ্গিকে খতম করে নিরাপত্তারক্ষীরা। ওই তিনজনের মধ্যে দু'জনের পরিচয় পাওয়া গেছে — শাহিদ কুট্টে ও আদনান শফি, দু’জনেই সোপিয়ানের বাসিন্দা।
শাহিদ কুট্টে ২০২৩ সালে কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী লস্করে যোগ দেয়। ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল সে কাশ্মীরের এক রিসর্টে গুলি চালায়। যেখানে দুই জার্মান পর্যটক ও তাঁদের চালক জখম হন। এছাড়াও, গত বছর মে মাসে সোপিয়ানের হিরপোরা অঞ্চলে বিজেপির এক সরপঞ্চকে হত্যার ঘটনায় কুট্টের নাম জড়ায়। গত মাসে, পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পরপরই প্রশাসন তার বাড়ি ভেঙে দেয়।
অন্যদিকে, আদনান শফি ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় এবং সোপিয়ানের ওয়াচি এলাকায় এক শ্রমিক খুনের ঘটনায় তার নাম উঠে আসে শিরোনামে।
সম্প্রতি পহেলগাম হামলার পর থেকে নিরাপত্তাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ওই হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। তারপর থেকেই লস্কর জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে একাধিক বাহিনীকে নিয়ে যৌথ অভিযান চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে, জইশ ও লস্করের একের পর এক শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিদের খতম করা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। ত্রালের ঘটনাস্থলে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চলা এই অভিযান সন্ত্রাসবাদ দমনে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রস্তুতি ও ক্ষমতার প্রমাণ, তা বলা বাহুল্য।