
শেষ আপডেট: 11 January 2024 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাম মন্দির নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সদলবলে আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। বুধবার হাত শিবির ঘোষণা করে ২২ তারিখ অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না কংগ্রেস। বিজেপি হাত শিবিরের ওই সিদ্ধান্তকে তোষণের রাজনীতি বলে বৃহস্পতিবার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য, ২২ তারিখ রাম মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান আসলে বিজেপি ও আরএসএসের কর্মসূচি। সেখানে কংগ্রেসের যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
লক্ষণীয় হল, কংগ্রেস উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও রাম মন্দির নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। বরং ২০১৯-এর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রামের জন্মস্থান বলে মেনে নিয়ে সেখানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলে কংগ্রেস সেই রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল।
কিন্তু কংগ্রেসের মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত বিজেপি যে হাত শিবিরের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে চলেছে, বৃহস্পতিবারই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রল্হাদ যোশীর বক্তব্য, এটা কংগ্রেসের তোষণ রাজনীতির আর এক নমুনা।
প্রল্হাদ বলেন, ‘কংগ্রেস কখনও রাম মন্দির নির্মাণ আন্দোলনকে সমর্থন করেনি। স্বভাবতই কংগ্রেসের মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের তোষণ রাজনীতি করেছে। আসলে কংগ্রেস বরাবর বলে এসেছে রামচন্দ্র একটি কাল্পনিক চরিত্র।’
অন্যদিকে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনুরাগের বক্তব্য, এই কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীর কংগ্রেস নয়, নেহরুর কংগ্রেস। তাঁরই উত্তরসূরিরা রাম মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জবাবে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার বক্তব্য, কংগ্রেস কোনও দিন রাম বিরোধী নয়। রামকে আসলে কুক্ষিগত করেছে বিজেপি-আরএসএস। অন্যদিকে, কর্নাটকেরই প্রবীণ বিজেপি নেতা সিটি রবিও এই ইস্যুতে নিশানা করেছেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তিনি বলেন, ‘গুজরাতে সোমনাথ মন্দিরে কখনও যাননি নেহরু। তিনি সোমনাথ মন্দির সংস্কারের বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকী রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কেএম মুন্সি সোমনাথ মন্দির সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নেহরু আপত্তি করেন।’
বিজেপি নেতা রবিও আসলে বোঝাতে চান, বর্তমান কংগ্রেস ধর্মের প্রশ্নে নেহরুর পথ অনুসরণ করে চলেছে। প্রসঙ্গত, সংস্কার হওয়া সোমনাথ মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ। তাঁর সেই সিদ্ধান্তে আপত্তি তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেহরু। তাঁর বক্তব্য ছিল কোনও ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের রাষ্ট্রপতির ধর্মীয় স্থান উদ্বোধন করা অনুচিত। ব্যক্তিগতভাবে কেউ তাঁর ধর্ম বিশ্বাসের জায়গা থেকে এই জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে নয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নেহরুর পরামর্শ শোনেননি রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ। ৭৪ বছর আগের সেই বিতর্ককে রাম মন্দির ইস্যুতে খুঁচিয়ে তুলছে বিজেপি।