
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 March 2025 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মলমাস চৈত্র পড়ার আগেই নাম ঘোষণা করা হবে ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতির। বর্তমান বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন পর্যন্ত তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই অবস্থায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন সেরে ফেলা হবে। তবে এবার কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বিজেপির ইতিহাসে এই প্রথমবার দলের শীর্ষ পদে বসতে পারেন কোনও মহিলা নেত্রী। এবং তাও নির্বাচন করা হবে দক্ষিণী কোনও রাজ্য থেকে।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ সালে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকটা মাথায় রেখে সভাপতি নির্বাচনের উপর গুরুত্ব দিতে চায় দল। যদিও বিজেপির প্রধান মস্তিষ্ক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের পছন্দের ব্যক্তিকেই অঘোষিত-অলিখিত নীতি বলে স্বীকার করে থাকে পদ্ম শিবির। বিজেপির দলনীতি অনুযায়ী, রাজ্য শাখাগুলির অন্তত অর্ধেকের সভাপতি নির্বাচন সেরে ফেলতে হয় জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের আগে।
দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম লিখছে, আশা করা হচ্ছে, এইবার দলের ইতিহাসে প্রথম কোনও মহিলাকে শীর্ষ পদে আনা হতে পারে। দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলিকে জোরাল সাংগঠনিক বার্তা দিতে এবার দক্ষিণী কোনও নেত্রী দলের সভানেত্রীর পদে বসানো হতে পারে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে। সেই মতো অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি প্রধান দাগ্গুবতী পুরন্দেশ্বরী অথবা বিজেপি মহিলা মোর্চার জাতীয় সভানেত্রী ও কোয়েম্বাতুরের বিধায়ক বনতী শ্রীনিবাসনের নাম প্রথম সারিতে রয়েছে।
৬৬ বছরের পুরন্দেশ্বরী ২০১৪ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। দক্ষিণে সুষমা স্বরাজ বলে দলে খ্যাত এই নেত্রী অসামান্য বক্তা এবং পাঁচটি ভাষায় অনর্গল বলতে পারেন। বিজেপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে কোয়েম্বাতুরের বিধায়ক শ্রীনিবাসনের প্রতিও অমিত শাহ অত্যন্ত দরাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, তিনি মহিলা মোর্চাকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে চলেছেন। যার জন্য খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শাহ দুজনেরই প্রিয় পাত্রী।
বিজেপির এক প্রবীণ নেতা জানান, বিজেপি নতুন কার্যকরী সমিতির সদস্যরা হবেন ৫০-৭০ বছরের মধ্যে। অনেকে মনোহরলাল খট্টরের নাম করলেও তাঁর ৭১ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় পার্টির বিধি অনুযায়ী তাঁকে হয়তো বিশ্রামে বা অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিজেপি সভাপতি পদে আরও যাঁদের নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তাঁরা হলেন, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। যাঁর বয়স মাত্র ৫৫ বছর। যদি মহিলা নেত্রীদের নাম বাদ চলে যায়, তাহলে লড়াইয়ের প্রথম সারিতে থাকতে পারেন ভূপেন্দ্র যাদব, তাঁরও বয়স ৫৫ এবং ৬১ বছরের বিনোদ তাওড়ে।