রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে সুরাটের একটি আদালত ফৌজদারি মানহানির মামলায় তাঁকে দু’বছরের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল, ‘মোদী’ পদবি নিয়ে মন্তব্যের জেরে এই মামলা।
.jpeg.webp)
রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 13 February 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছে বিজেপি। সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey) কংগ্রেস সাংসদের সংসদীয় সদস্যপদ খারিজের (Rahul Gandhi Parliament Post) দাবি জানিয়ে নোটিস জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তাঁকে আজীবনের জন্য নির্বাচনে লড়ার অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিও তোলা হয়েছে।
ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি (US India Trade Deal) নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন দুবে। এই প্রেক্ষিতে বড় প্রশ্ন - একজন বর্তমান সাংসদকে আদৌ কি লোকসভা থেকে সরানো (Expulsion From Loksabha) সম্ভব? সংসদীয় বিধি অনুযায়ী তার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।
প্রথম ধাপে কোনও সাংসদ বা রাজনৈতিক দল লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। এরপর বিষয়টি লোকসভার স্পিকারের কাছে যায় বিবেচনার জন্য। স্পিকার চাইলে অভিযোগটি বিশেষাধিকার কমিটি বা নীতিগত তদন্তকারী কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন।
কমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিশদ অনুসন্ধান চালায়। প্রয়োজনে সাক্ষী ডাকা হয়, প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখা হয় এবং অভিযুক্ত সাংসদকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে কমিটি একটি রিপোর্ট তৈরি করে, যেখানে সুপারিশ উল্লেখ থাকে।
এই রিপোর্ট লোকসভায় পেশ করা হয়। যদি কমিটি মনে করে সাংসদ দোষী এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করে, তা হলে সেই সুপারিশ গ্রহণের জন্য সভায় প্রস্তাব আনা হয়। উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে সুরাটের একটি আদালত ফৌজদারি মানহানির মামলায় তাঁকে দু’বছরের কারাদণ্ড দেয়। অভিযোগ ছিল, ‘মোদী’ পদবি (Modi Surname) নিয়ে মন্তব্যের জেরে এই মামলা। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১–এর ৮(৩) ধারায় বলা আছে, দু’বছর বা তার বেশি সাজা হলে সাংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষিত হন। সেই সূত্রেই তাঁর লোকসভার সদস্যপদ খারিজ হয়।
তবে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত সাজা স্থগিত রাখায় তাঁর সাংসদ পদ পুনর্বহাল হয় এবং তিনি ফের সংসদে যোগ দেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশিকান্ত দুবের নোটিস কতদূর গড়ায়, তা নির্ভর করবে সংসদীয় প্রক্রিয়া ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কের উপর। তবে বিধি মেনে এগোলে বহিষ্কার সম্ভব - এ কথা স্পষ্ট।
লোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (US India Trade Deal) এবং কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026) নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসঙ্গেও তিনি বক্তব্য রাখেন। সেই বক্তৃতাকেই ‘তথ্যহীন ও ভিত্তিহীন অভিযোগে পরিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছে বিজেপি।
নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী বিদেশি সংস্থা - যেমন সোরোস ফাউন্ডেশন, ফোর্ড ফাউন্ডেশন, ইউএসএআইডি—এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও আমেরিকার মতো দেশে নিয়মিত সফর করেন। তাঁর বক্তব্য, এই সব যোগসূত্র দেশের স্বার্থবিরোধী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। সেই কারণেই তাঁর সংসদীয় সদস্যপদ বাতিল এবং আজীবন নির্বাচনে লড়াইয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলা হয়েছে।