
শেষ আপডেট: 22 February 2024 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদ্ম বনে ঠাঁই হচ্ছে না কমলনাথের। কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গিয়। বৃহস্পতিবার জব্বলপুরে সাংবাদিকদের বিজেপির প্রাক্তন সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা একদা বঙ্গ বিজেপির অভিভাবক কৈলাশ একথা জানান।
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৭৭ বছরের প্রবীণ কমলনাথ বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে গত সপ্তাহে জল্পনা শুরু হয় তাঁর সপুত্র দিল্লি যাত্রা থেকে। দিল্লি, ভুপালে জল্পনা উসকে দেন তিনি স্বয়ং। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নসাৎ না করে কমলনাথ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত পাকা হলে সবার আগে সংবাদমাধ্যমকে জানাবো।’ যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা প্রথম থেকেই কমলের পদ্ম বনে যাওয়ার সম্ভাবনা খারিজ করে দিচ্ছিলেন।
তারপরও কমলের এই প্রতিক্রিয়া কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বিচলিত হয়ে পড়লেও বিজেপি প্রথম থেকে কমলনাথের ব্যাপারে উদাসীন থেকেছে। দলের রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জল্পনায় বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি। পদ্ম শিবিরের তরফে বৃহস্পতিবার প্রথম মুখ খুললেন বিজয়বর্গিয়।
ওয়াকিবহাল মহলের খবর, বিজেপি প্রকাশ্যে আগ্রহ না দেখালেও কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। কমলনাথও ষোলআনা রাজি ছিলেন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করায় তাঁর জন্য বিজেপি আপাতত দরজা বন্ধ করে দিল। তাছাড়া, ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পর দিল্লি ও আশপাশে শিখ নিধন কাণ্ডে কমলনাথের নাম জড়িয়েছিল। বিজেপির ভিতর থেকে এই কারণে আপত্তি উঠেছে এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সম্পর্কে।
অন্যদিকে, দিল্লিতে মধ্যপ্রদেশের এই নেতাকে কংগ্রেস হাইকমান্ড যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। সনিয়া, রাহুল, প্রিয়ঙ্কারা ফোনে কথা বলে তাঁর ক্ষোভ প্রশমণের চেষ্টা করেন। বর্ষীয়ান নেতার ক্ষোভের কারণ, বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের দায় দল তাঁর উপর চাপিয়েছে। ভোটের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। সাত বছর ওই পদে থাকা কমলনাথ ভোটের পরাজয়ের দায় নিয়ে নিজে সরে যাননি। দল তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করে। তাছাড়া, মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় যেতে ইচ্ছুক ছিলেন এই নেতা। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির এই নেতা দলকে বুঝিয়েছিলেন, তাহলে দিল্লিতে অনেকটা সময় দিতে পারবেন। হাইকমান্ড তাঁর এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এই পরিস্থিতিতে জল মাপতে চেয়েছিলেন কমলনাথ। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসেই থাকছেন তিনি। অথচ বুধবার ভুপালে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে দেখা করেন কমলনাথ পুত্র নকুল। তাঁর ছিন্দওয়ারা লোকসভা কেন্দ্রে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন নকুল। আবার বুধবারই কমলনাথের অনুগামী প্রায় দেড় হাজার কংগ্রেস কর্মী বিজেপিতে যোগ দেন। তাতে কমলনাথের বিজেপিতে পা বাড়ানোর জল্পনা আরও তীব্র হয়েছিল।