
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 21 April 2025 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের গয়া জেলার বুনকার অধ্যুষিত এলাকা পাতওয়া টোলি। মূলত সকলের কাছে পরিচিত হ্যান্ডলুমের জন্য। বিখ্যাতও বটে। এক দুই পুরুষ ধরে শাড়ি কাপড়-সহ নানা হ্যান্ডলুমের কাজের সঙ্গে জড়িত প্রায় সমস্ত পরিবার। কিন্তু ডাক্তারের ছেলে ডাক্তারই হবে, একথাও তো কোথাও লেখা নেই। তাই ছক ভাঙা পথে হেঁটে বেশ কয়েকবছর ধরে এখান থেকেই উঠে আসছে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র। আইআইটিতে সুযোগ পাচ্ছেন একালের অনেকেই।
পড়াশোনাটা ওদের একটা সময় কোনওমতেই হত। কাজই ছিল মূল। কিন্তু শিক্ষার আলো পৌঁছনোর পর বিহারের এই এলাকা বাকি অনেকের থেকে অনেকটা এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়া শুরু করে পাতওয়া টোলি। অনেকে বলছেন, এখন কোটায় নয়, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষজন এই এলাকায় পৌঁছচ্ছেন প্রস্তুতি নিতে।
টোলিতে এই কাজ চলছে প্রায় ২৫ বছর ধরে। শুরুটা হয়েছিল ১৯৯১-এ। জিতেন্দ্র পাতওয়া প্রথম এই গ্রাম থেকে আইআইটিতে ভর্তি হন। তাঁর ওই সাফল্য অনেককে অনুপ্রাণিত করে। আজ প্রায় প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজন করে ইঞ্জিনিয়র রয়েছেন।
এই সাফল্য দেখে ২০১৩ সালে পাতওয়া টোলিরই কয়েকজন প্রাক্তন আইআইটিয়ান মিলে ‘বৃক্ষ’ নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। যেখানে পড়ুয়াদের নিখরচায় পড়ানো, পড়াশোনার সামগ্রী দেওয়া ও দেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এখন অনেকেই এই জায়গাকে 'বিহারের আইআইটি ফ্যাক্টরি' বলেন। এখান থেকেই এবার ৪০ জনেরও বেশি পড়ুয়া জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (জেইই) মেইনসের দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাগর কুমার, পেয়েছেন ৯৮.৮ শতাংশ। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন। চরম আর্থিক ও মানসিক চাপের মধ্যেও হেরে যাননি।
এমন সাফল্যের জন্য নিঃসন্দেহে খুশি গোটা গ্রাম। আগামীদিনে আরও অনেকে এই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়রের মতো পেশায় যেতে পারবেন বলে আশাবাদী তাঁরা।