বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা মতো বিশেষ নিবিড় সংশোধনী ঘিরে সাধারণ ভোটাররা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন।

শেষ আপডেট: 4 July 2025 09:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন (electoral roll revision) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নয়া নির্দেশিকাকে বিরোধীরা ‘ফতোয়া’ বলে অভিযুক্ত করেছে। বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা মতো বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (special intensive revision) ঘিরে সাধারণ ভোটাররা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিহারের গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে অশান্তি।
বাদ নেই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিধানসভা কেন্দ্র বাঢের (Barh-the assembly constituency of CM Nitish Kumar) পৈত্রিক গ্রাম কল্যাণ বিঘাও। নীতীশ এখনও এই গ্রামের ভোটার। বিরোধী দলনেতা আরজেডির তেজস্বী যাদবের রাঘোপুর (Raghapur-Assembly constituency of leader of the opposition Tejaswi Yadav) গ্রামেও দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে। নীতীশের বুথের বুথ লেবেল অফিসার বা বিএলও বেশ কয়েকবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। গ্রামবাসীদের বেশিরভাগের বক্তব্য, আধার কার্ড ছাড়া আর কোনও নথি দেখাতে পারব না। নাম বাদ গেলে ভোট হতে দেব না গ্রামে।
নির্বাচন কমিশন বিহারেই প্রথম ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধনী অভিযান শুরু করেছে। আসছে নভেম্বরে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। চলতি বাসের ২৫ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
কমিশন ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তিবর্ষ ধরে বলেছে, ওই তালিকায় যাদের নাম ছিল না ভোটার তালিকায় তাদের নাম রাখতে হলে বয়স এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। কমিশনের এই নির্দেশ ঘিরেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। বিরোধীদের চাপের মুখে কমিশন গত মঙ্গলবার ব্যাখ্যা দেয় ৬০ শতাংশ ভোটার এই নিয়মের আওয়াত আসবেন না। দেখা যাচ্ছে বাকি ৪০ শতাংশ বা দুই কোটির বেশি ভোটারকে নথিপত্র দেখাতে হবে। তা না হলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে।
কমিশনের এই ঘোষণায় দল নির্বিশেষে ভোটাররা ক্ষুব্ধ। দল হিসাবে বিজেপি বাদে সব পার্টিই কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে। এনডিএ-র শরিক জনতা দল ইউনাইটেড এবং এলজেপি তুমুল আপত্তি তুলেছে কমিশনের সিদ্ধান্তে। তাদের বক্তব্য, কমিশন যে সব নথিপত্র চাইছে সেগুলি বেশিরভাগ দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু এবং ওবিসি ভুক্ত পরিবারে নেই। তাদের নাম বাদ চলে যেতে পারে তালিকা থেকে।
পাটনা থেকে গাড়িতে এক দেড় ঘণ্টার পথ মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিধানসভা কেন্দ্র বাঢ। সেখানে পৈত্রিক গ্রাম তথা জন্মস্থান কল্যাণ বিঘার বুথে ভোট দেন নীতীশ। ওই গ্রামের ব্লক লেবেল অফিসারের দায়িত্বে আছেন পিঙ্কি কুমারী। গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে দাবি করছেন হয় আমাদের নথি তৈরি করে দাও নয়তো নাম বাদ দেওয়া যাবে না। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের কাছে শুধু আধার কার্জ আছে। জাতি প্রমাণপত্রও নেই বেশিরভাগের।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের প্রতিবেশী মেঘন মাঝির অভিযোগ, কমিশনের লোক যে এগারোটি নথিপত্র দেখাতে বলছে সেগুলির একটি তাঁর কাছে নেই। তিনি ২০০৪ সাল থেকে ভোট দিয়ে আসছেন। এখন কমিশনের লোকেরা বলছেন, নাম বাদ যাবে।
বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের কেন্দ্র রাঘোপুর, লালুপ্রসাদের ছাপরা, সারণ থেকেও বহু মানুষ ফোনে দলীয় অফিসে যোগাযোগ করে বলেছেন, তাদের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে কমিশন। কারণ নথিপত্র দেখাতে পারছে না।
বিহারের ওই অঞ্চলে ফি বছর বন্যা হয়ে থাকে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বহু জায়গা জলের তলায়। রাজ্যে এবার বর্ষাও এসেছে আগে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, প্রতি বন্যায় নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে তৈরি করাতে গেলেও বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়।