মুখ্যমন্ত্রীর মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পে (Chief Minister’s Women Employment Scheme) আর্থিক সহায়তা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা করা হল। তবে এই বাড়তি টাকা মিলবে কাজের দক্ষতা (performance) ও প্রকল্প ব্যবহারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Chief Minister Nitish Kumar) মন্ত্রিসভার বৈঠকের (cabinet meeting) পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা স্বনির্ভরতা (women’s self-employment) জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পে (Chief Minister’s Women Employment Scheme) আর্থিক সহায়তা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা করা হল। তবে এই বাড়তি টাকা মিলবে কাজের দক্ষতা (performance) ও প্রকল্প ব্যবহারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Chief Minister Nitish Kumar) মন্ত্রিসভার বৈঠকের (cabinet meeting) পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) জানান, উপভোক্তাদের কাজের মডেল (work model) খতিয়ে দেখে ধাপে ধাপে এই অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা ইতিমধ্যে প্রথম কিস্তি হিসেবে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন, তাঁরা ছ’মাস পরে আরও টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন। শর্ত একটাই, এই টাকা কতটা কার্যকরভাবে (effectively) কর্মসংস্থান বা ব্যবসা (employment/business) শুরু করতে ব্যবহার করা হয়েছে, তার মূল্যায়ন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নির্বাচিত উপভোক্তাদের (selected beneficiaries) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই টাকা একবারে নয়, ধাপে ধাপে দেওয়া হবে এবং আগের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে তবেই পরবর্তী কিস্তি মিলবে। তিনি আরও জানান, যেসব ক্ষেত্রে ব্যবসা ভালোভাবে চলছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী এককালীন বড় অঙ্কের টাকা (lump sum) দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন মহিলাকে স্বনির্ভর উদ্যোক্তা (entrepreneur) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ইতিমধ্যে ১.৫৬ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ ও শহর— দু’জায়গাতেই মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা (financial independence) বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বরোজগারে (self-employment) নতুন গতি আসবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব ক্ষেত্রে ব্যবসা ভালোভাবে চলছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী এককালীন বড় অঙ্কের টাকাও দেওয়া হতে পারে।
এখনও পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন মহিলাকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এই টাকা সরাসরি চলে গিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের (rural and urban areas) বাকি যোগ্য আবেদনকারীরাও শিগগিরই নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই অর্থ পাবেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ নিজের উদ্যোগ (enterprise) শুরু করার ছ’মাস পর তাঁর কাজের মূল্যায়ন (six-month review) করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ছ’মাস পরে কাজের অগ্রগতি দেখে পরবর্তী সহায়তা দেওয়ারই বিধান রয়েছে।
এদিকে উপভোক্তাদের তৈরি পণ্যের সঠিক বিপণন (marketing) নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নীতীশ জানান, উপভোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের (government programmes) সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে—যেমন স্কুল ইউনিফর্ম তৈরির কাজ (uniform manufacturing), সুধা বিক্রয় কেন্দ্র (Sudha sales centres) এবং দিদি কি রসোই (Didi Ki Rasoi)। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই বাড়তি আর্থিক সহায়তা রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক অবস্থান (economic position) আরও মজবুত করবে এবং রাজ্যের মধ্যেই ভালো কর্মসংস্থানের (local jobs) সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর কথায়, স্থানীয় স্তরে কাজ বাড়লে মানুষকে আর জীবিকার খোঁজে (migration) বিহারের বাইরে যেতে হবে না। সরকারের ধারণা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা (women entrepreneurship) এবং স্থানীয় জীবিকা (local livelihoods) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে।