
শেষ আপডেট: 21 December 2023 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ তারিখে লোকসভায় ঝাঁপ কাণ্ডের পর থেকেই হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি নতুন সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিরোধীরা আক্রমণের ফলায় বিদ্ধ করতে শুরু করেছিল মোদী সরকারকে। সেই ঘটনার সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই সংসদ ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করা হল। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে সংসদ ভবন চত্বরের একটা বড় অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দিল্লি পুলিশকে। বদলে এখন থেকে সেই গুরুদায়িত্ব সামলাবেন সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স অর্থাৎ সিআইএসএফ জওয়ানরা। সংসদ চত্বরে ঢোকার সময় ফ্রিস্কিং থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে এবার দেখভাল করবেন এই সশস্ত্র জওয়ানরা।
তবে কমপ্লেক্সের ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখনও লোকসভার সচিবালয়ের হাতেই থাকছে। আর বাইরের অংশের সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখার দায়িত্বও দিল্লি পুলিশের হাতেই রাখা হয়েছে। সিআইএসএফ বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানবন্দর, বিভিন্ন নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি সহ অন্তত সাড়ে তিনশ হাই প্রোফাইল জায়গার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। এখন থেকে তার সঙ্গে যোগ হল সংসদ ভবনও।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর বুধবার লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন সংসদ কক্ষের ভেতরে দর্শকদের বসার গ্যালারি থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই যুবক। তারপর জুতোর ভিতর থেকে স্মোক ক্যানিস্টার বের করে তা স্প্রে করে হলুদ ধোঁয়ায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন সংসদ চত্বর। দুজন যখন ভিতরে এই কাণ্ড ঘটাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় তাঁদের আরও কয়েকজন বন্ধু ঠিক একইভাবে সংসদের বাইরেও স্প্রে করছেন স্মোক বম্ব। মুখে স্লোগান, 'তানাশাহি নেহি চলেগা'।
অধিবেশন চলাকালীন এই ঘটনায় তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়েছিল লোকসভার অন্দরে। ঘটনাচক্রে সেদিনই ছিল ২০০১ সালের সংসদ হামলার ঘটনার ২২ বছর পূর্তি। আতঙ্কিত সাংসদরা ভেবেছিলেন, সেদিনের সেই আতঙ্কই আবার ফিরতে চলেছে। তবে শেষমেশ জানা যায়, প্রাণ কিংবা সম্পত্তিহানি করার উদ্দেশ্য ছিল না হামলাকারীদের। বরং মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর অখণ্ড নীরবতা, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষক সমস্যা সহ একাধিক ঘটনার প্রতিবাদেই সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে দাবি অভিযুক্তদের।
সেই ঘটনার পর মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। তারপর বুধবার রাতে আটক করা হয়েছে কর্নাটকের বগলকোটের বাসিন্দা আরও এক যুবককে। সাইকৃষ্ণ নামে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই যুবকের বাবা পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর নিয়েছেন।
সংসদ কাণ্ডের জল এখন অনেকদূর গড়িয়েছে। বুধবারের ঘটনার পরেই জানা গিয়েছিল, মহীশূরের বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহার সুপারিশে সংসদে ভিতরে ঢুকতে পেরেছিলেন দুই যুবক। সেই ঘটনার পর প্রতাপ সিমহার সাংসদ পদ খারিজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদরা। সেই ঘটনায় তৃণমূল, কংগ্রেস মিলিয়ে প্রায় দেড়শ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেননি অমিত শাহ। তবে তার মধ্যেই সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন করা হল।