
শেষ আপডেট: 6 December 2023 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসারের চাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজের চাপ বাড়ছে। বাড়ছে মানসিক অবসাদ, স্ট্রেস। দিনের একটা বড় অংশ চাকরির পিছনে ব্যয় করলেও কর্পোরেটকে তুষ্ট করা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, আরও সময়, আরও পরিশ্রম। এদিকে কাজ ছাড়ার উপায় নেই, সংসার চলবে কীভাবে! উপায় একটাই, নিজেকে শেষ করে দেওয়া। 'মুক্তি' লাভের সেই পথেই হেঁটেছেন প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরুর বিপুল সংখ্যক মানুষ। ভারতের সিলিকন ভ্যালি হিসেবে পরিচিত এই শহরে শুধুমাত্র কাজের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ২০২২ সালে মোট ১২১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য থেকে উঠে এসেছে এই পরিসংখ্যান যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। পেশাগত জীবনে চাপের কারণে আত্মহত্যা নিরিখে ফার্স্ট হয়েছে বেঙ্গালুরু। তবে পিছিয়ে নেই রাজধানী দিল্লিও। সেই শহরে গত বছর চাকরিজীবনে সমস্যার কারণে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন ৭৭ জন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাতের আমদাবাদ। সেখানে আত্মহত্যা করেছেন ৭১ জন।
শহরের হিসেবে আত্মহত্যার নিরিখে বেঙ্গালুরু ফার্স্ট হলেও রাজ্যের নিরিখে সেই হিসেব অনেকটাই পাল্টে যাচ্ছে। রাজ্যের ক্ষেত্রে পেশাগত জীবনের চাপের কারণে আত্মহত্যার তালিকায় ফার্স্ট হয়েছে মহারাষ্ট্র, যেখানে সংখ্যাটা হল ৬৪০। ৩৪১ জনের আত্মহত্যার রিপোর্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। মহারাষ্ট্রের এই পরিসংখ্যানে আরও একটি চমকে ওঠার মতো ব্যাপার হল, শুধুমাত্র চাকরিরত মানুষরাই নন, আত্মহত্যা করা মানুষের এই তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্তরাও। তবে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের আত্মহত্যার নিরিখে মহারাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে দিয়েছে গুজরাত। সারা দেশে ২০২২ সালে অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের ১২৮৮টি আত্মহত্যার মধ্যে ২৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩৪টি ঘটেছে মোদীরাজ্যে। মহারাষ্ট্র ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা হল ২৭৩।
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের আত্মহত্যা বেড়ে চলার নেপথ্যে রয়েছে বয়সজনিত অসুখ, একাকিত্ব, অবসাদ, এবং আরও একাধিক মানসিক ব্যাধি। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের ঘটনা এবং কারণ আলাদা, শুধু একটি জায়গাতেই সকলে একই বিন্দুতে এসে মিশেছেন, তা হল অসহায়তা। এক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে অবসর গ্রহণের পরেও তাঁরা যাতে জীবনের মানে খুঁজে পান, সেই লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও বহুক্ষেত্রেই তা খুব একটা কাজে আসছে না বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেকারত্বের কারণে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যা করেছেন মহারাষ্ট্রে, ৬৪২ জন। কর্নাটকে এই সংখ্যাটা ৬০৫। ২৮৯টি মৃত্যু সংবাদ তৃতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। তবে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর ২০২২ সালের আত্মহত্যার এই পরিসংখ্যান কোথাও আশার আলোও দেখাচ্ছে। কারণ, ২০২১ সালের তুলনায় দেশের তিনটি বড় শহর- আমদাবাদ, সুরাত এবং ভাদোদরায় আত্মহত্যার হার ৫ থেকে ৬.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।