গত ৭ মে সন্ধেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রুমমেটকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন নিখিল। লেখা ছিল, 'পরিবারকে জানাতে যে তাঁর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।'

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 21 May 2025 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে লেকের ধারে ২৫ বছরের যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার নতুন মোড়। মৃত্যুর আগে বন্ধুকে মেসেজে লিখেছিলেন, সকলকে জানাতে তাঁর মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় হয়েছে। হঠাৎ কেন এই মেসেজ পাঠালেন তিনি? আত্মঘাতী হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তরুণ (Techie texted friend)? ঘনাচ্ছে রহস্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৭ মে সন্ধেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রুমমেটকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন নিখিল। লেখা ছিল, 'পরিবারকে জানাতে যে তাঁর দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।' রুমমেট ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হলে, তিনি নিখিলের লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে সেখানে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে একজোড়া জুতো দেখতে পেয়েছিলেন ওই যুবক। দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও অন্ধকার থাকায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। পরের দিন সকালেই লেকের কাছ থেকেই নিখিল সোমবংশীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
বেঙ্গালুরুর (Bengalore) আগরা লেকের কাছে ২৫ বছর বয়সি ইঞ্জিনিয়ার নিখিলের দেহ উদ্ধারের (Bengaluru Techie Found Dead) প্রায় দু'সপ্তাহ পর সহকর্মীদেরই অভিযোগ, অফিসের 'টক্সিক' কর্মসংস্কৃতির কারণেই আত্মহত্যা করেছেন নিখিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৃতের সহকর্মী অভিযোগ করেন, ম্যানেজার মি: পানুগান্তি নতুন নিয়োগ হওয়া কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে কথা বলতেন। তাঁদের ওপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দিতেন এবং অফিসে সম্পূর্ণভাবে টক্সিক পরিবেশ তৈরি করতেন যার ফলে একাধিক কর্মী চাকরি ছেড়েছেন।
২০২৪ সালে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন নিখিল। গত বছরই বেঙ্গালুরুর 'ক্রুট্রিম' নামের সংস্থায় মেশিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেছিলেন। অভিযোগ, কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিখিলের উপর চাপ সৃষ্টি করা হত। উর্ধ্বতনেরা প্রায়ই অকথ্য ভাষায় কথা বলতেন। অনেকে চাকরি ছাড়লেও নিখিল কাজ করছিলেন।
তরুণের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, 'ঘটনার সময় নিখিল ছুটিতে ছিলেন।' ইমেল মারফত ওই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা (Tech Company) আরও জানিয়েছে, 'এপ্রিলের ৮ তারিখ নিখিল ম্যানেজারকে জানিয়েছিলেন তাঁর বিশ্রাম প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত কারণেও কয়েকদিনের ছুটি নিতে চান। ১৭ এপ্রিল তাঁর অনুরোধে ছুটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়।'
রেডিট ব্যবহারকারীর আরও অভিযোগ, নিখিলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছিলেন ম্যানেজার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক 'ক্রুট্রিম'-এর কর্মী সমাজমাধ্যমে লেখেন, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীদের প্রতি অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছেন ওই ম্যানেজার। কর্তৃপক্ষকে জানালে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।