
বৌমার শাস্তি চান অতুল সুভাষের বাবা
শেষ আপডেট: 16 December 2024 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ার অতুল সুভাষের আত্মহত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। অতুল তাঁর লিখে যাওয়া শেষ চিঠিতে এবং ভিডিওতে তাঁর স্ত্রী নিকিতা এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ করে গেছেন। অতুলের পরিবারও একইরকম অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। তাঁর বাবার দাবি, ছেলেকে এটিএম-এর মতো ব্যবহার করত নিকিতা।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে অতুলের বাবা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পিছনে সরাসরি হাত রয়েছে নিকিতা এবং তাঁর মায়ের। তাঁরা বারংবার অতুলের থেকে টাকা দাবি করে গেছে। অতুলের বাবা বলছেন, ''আমার ছেলেকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে। এটিএম-এর মতো ব্যবহার করা হয়েছে।'' তিনি এও জানিয়েছেন, ২০২১ সালে অতুলের সঙ্গে ডিভোর্স নিতে চেয়ে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল নিকিতা। একই সঙ্গে, নগদ টাকা ছাড়া তাঁর কী কী লাগবে তাও একটি তালিকা পাঠিয়েছিল সে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিকিতাকে ইতিমধ্যে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর মা এবং ভাইকে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অন্য এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।
অতুলের ভাই আগেই জানিয়েছিলেন, যতদিন বেঁচে ছিল প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে গেছে সে। বিচারের আশা করেছিল কিন্তু পায়নি। ইঞ্জিনিয়ারের পরিবার স্পষ্ট দাবি করেছে, তাঁদের ছেলেকে মাসের পর মাস মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে। ভুয়ো মামলা, ছেলেকে নিয়ে চলে যাওয়া, তাঁর সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে না দেওয়া, লক্ষ-কোটি টাকা চাওয়া... সব মিলিয়ে নিকিতা এবং তাঁর পরিবার অতুলকে খুন করেছে বলেই দাবি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আবার এও জানতে পেরেছে, মৃত্যুর আগে গুগল ড্রাইভের একাধিক লিঙ্ক অতুল শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই লিঙ্ক উধাও হয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়া ফাইলগুলির মধ্যে ২৪ পাতার সুইসাইড নোট যেমন ছিল তেমনই বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে ‘টু মিলর্ডস’ নামে একটি লেখাও ছিল। অতুলের মৃত্যুর পর ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থা নিয়েও। এর মাঝে আচমকা তথ্য উধাওয়ের বিষয়টি খুব একটা ভাল চোখে দেখছেন না তদন্তকারীরা।