মহেন্দ্র দাবি করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, কৃতিকার দেহে প্রোপোফল নামের ওষুধের উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 4 November 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'তোমার জন্যই আমার স্ত্রীকে মেরে ফেললাম', নৃশংস ঘটনা (Bengaluru doctor murder case) ঘটানোর পর ছিল না কোনও অনুতাপ, প্রেমিকাকে এই মেসেজ পাঠিয়ে সেই কথাই প্রমাণ করে দেন বেঙ্গালুরুর অ্যানাস্থেশিয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত সার্জেন।
গত বছর মে মাসে বিয়ে হয়েছিল সার্জন মহেন্দ্র রেড্ডি এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কৃতিকা রেড্ডির। সুখের সংসার পেতেছিলেন চিকিৎসক দম্পতি। কিন্তু বছর ঘুরতেই যে এমন পরিণতি হবে তা হয়তো পরিকল্পনাও করতে পারেনি কেউ। স্বামীর দীর্ঘ ষড়যন্ত্রে খুন হলেন তরুণী।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, টানা কয়েকমাস ধরেই স্ত্রীকে অল্প অল্প করে অ্যানাস্থেশিয়া (Anesthetic drug) দিতে থাকেন মহেন্দ্র। খুনের ঘটনাটি ঘটে গত ২১ এপ্রিল। সেদিন রাতে কৃতিকাকে তাঁর চিকিৎসক স্বামী প্রোপোফল (Propofol) নামের শক্তিশালী অ্যানাস্থেটিক ইনজেকশন দেন, যা সাধারণত অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর কৃতিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে মহেন্দ্র তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মহেন্দ্র দাবি করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, কৃতিকার দেহে প্রোপোফল নামের ওষুধের উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।
এরপরই মৃতার বাবা থানার দ্বারস্থ হন এবং দাবি করেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পিছনে মহেন্দ্রর হাত আছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে চিকিৎসক দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযুক্তর ঘর থেকে ক্যানুলা সেট, ইনজেকশন টিউব এবং অন্যান্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত সামগ্রী পাওয়া যায়। তরুণীর মৃত্যুর ছ'মাস পর, গত ১৫ অক্টোবর মহেন্দ্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মহেন্দ্রই এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত। তিনি নিজেই কৃতিকাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ডাক্তারদের আসল ঘটনা জানাননি। পরে তদন্তে জানা যায়, কৃতিকাকে অজ্ঞান করার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ কমিশনারের কথায়, এটি যে পরিকল্পিত অপরাধ, তা এখন স্পষ্ট।
তদন্তে আরও জানা গেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পরই মহেন্দ্র রেড্ডি তাঁর প্রেমিকাকে ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, তাতে লিখেছিলেন, "I killed my wife for you" অর্থাৎ তোমার জন্যই আমার স্ত্রীকে খুন করলাম।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তর প্রেমিকাকে আটক করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, এই খুনের ষড়যন্ত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।