
রাজ ও সিমরন। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'মা, আমি চিরদিনের জন্য ঘুমোতে যাচ্ছি'— এই কথা বলেই আত্মহত্যা করলেন ২৮ বছর বয়সি যুবক। স্ত্রীর অভিযোগের পর একরাত পুলিশ হেফাজতে থাকতে হয়েছিল রাজ আর্য নামের ওই যুবককে। তার পরেই মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটান তিনি। এই ঘটনায় অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে অতুল সুভাষের আত্মহত্যার ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত এক ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে। সেখানে রাজের স্ত্রী সিমরন লিখেছিলেন, 'তুই ১০.৩০টার মধ্যে জেলে যাবি। অল দ্য বেস্ট, এখন তোকে জেলেই যেতে হবে।' এর পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয় রাজের বিরুদ্ধে, গ্রেফতার হন তিনি। হেফাজতে রাতও কাটান। ঠিক তার পরের দিনই ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করেন রাজ।
রাজের পরিবারের দাবি, তাঁর স্ত্রী সিমরন এবং শ্যালক, যিনি নিজেও একজন পুলিশ অফিসার, তাঁরা যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করছিলেন রাজের উপর। তাঁরা দাবি করেছেন, থানাতেও রাজকে মারধর করা হয়।
জানা গেছে, রাজ ও সিমরনের বিয়ে হয় এক বছর আগে। তাঁদের একটি ছোট সন্তানও রয়েছে। কিন্তু শুরু থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তির শেষ ছিল না। পরিবর সূত্রের খবর, আত্মহত্যার ঠিক দুদিন আগে রাজ সিমরনকে আনতে গেছিলেন শাহজাহানপুরের বাপের বাড়ি থেকে। কারণ তাঁরা এক আত্মীয়ের বিয়েতে দেরাদুন যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
কিন্তু সিমরনের পরিবার তাঁকে রাজের সঙ্গে যেতে দেয়নি। রাজের বোনের অভিযোগ, ওই দিন সিমরনের ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রাজ এবং রাজের বাবাকে মারধর করেন।
অভিযোগ, এই ঘটনার পরের দিনই সিমরনের পরিবারের পক্ষ থেকে বরেলির মহিলা থানায় রাজ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকে থানায় ডাকা হয় এবং সেখানেই তাঁকে আটক রাখা হয় একরাত।
রাজের পরিবার জানায়, সিমরনের ভাই, যিনি ওই থানাতেই কর্মরত, তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে রাজকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। এই ঘটনার পরেই রাজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার থানার হেফাজত থেকে ফিরে রাজ অত্যন্ত বিমর্ষ ছিলেন। তিনি মাকে বলেন, 'আমি চিরদিনের জন্য ঘুমোতে যাচ্ছি, আমাকে আর বিরক্ত কোরো না।'
মা প্রথমে ভেবেছিলেন রাজ হয়তো অভিমান করে ঘুমোতে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ঘরে গিয়ে দেখেন, রাজ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই থানার অফিসার এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা করা হবে।