CAA-র অধীনে অসমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রথম মহিলা তিনি (Bangladeshi woman citizenship India CAA)। শুধু তাই নয়, রাজ্যে তিনিই প্রথম যিনি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব পেলেন।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 13 December 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম অসমে এক বাংলাদেশি মহিলা ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন (Bangladeshi woman citizenship India)। অসমের (Assam) শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি ওই মহিলা ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন (Bangladesh migrant citizenship)। সম্প্রতি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র (Indian citizenship under CAA) দেওয়া হয়েছে।
শিলচরের প্রাক্তন ফরেনার্স ট্রাইবুনাল (FT) সদস্য ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট ধর্মানন্দ দেব জানান, ওই মহিলা ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পদবি ব্যবহার করেন। ২০০৭ সালে তিনি এক আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসেছিলেন। সেই সময়ই শ্রীভূমি জেলার (আগের নাম করিমগঞ্জ) এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকে বিয়ে এবং তারপর মহিলা ভারতেই থেকে যান। তাঁদের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে।
যদিও তাঁর পরিবার এখনও বাংলাদেশের চট্টগ্রামে থাকেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই মহিলার ইচ্ছে ছিল ভারতীয় নাগরিকত্ব (Indian citizenship) পাওয়ার। গত বছর CAA-র নিয়মাবলি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।
তবে প্রথম আবেদনটি, যা গত বছরের জুলাই মাসে জমা পড়েছিল, খারিজ হয়ে যায়। কারণ হিসেবে উঠে আসে লোকসভা নির্বাচনের আগে হওয়া ডিলিমিটেশন (সীমানা পুনর্নির্ধারণ) সংক্রান্ত বিভ্রান্তি। বর্তমানে তিনি যে বাদরপুর এলাকায় থাকেন, তার একটি অংশ শ্রীভূমি জেলা থেকে সরিয়ে কাছাড় জেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে তাঁর জেলা-অধিক্ষেত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে তাঁর আইনজীবী নতুন করে আবেদন করেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন অনুমোদন পায়।
ধর্মানন্দ দেব জানান, CAA-র অধীনে অসমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রথম মহিলা তিনি। শুধু তাই নয়, রাজ্যে তিনিই প্রথম যিনি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব পেলেন।
আইনগত দিকটি ব্যাখ্যা করে দেব বলেন, “নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৫(১)(সি), ধারা ৬বি অনুযায়ী এই নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা আছে, কোনও ব্যক্তি যদি একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন এবং ভারতে সাত বছর বসবাস করেন, তাহলে তিনি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।”
এই একই প্রক্রিয়ায় কাছাড় জেলার ৬১ বছর বয়সি এক পুরুষও ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
ধর্মানন্দ দেব জানান, শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) নাগরিকত্বের শংসাপত্রগুলি জারি করেছে। নাগরিকত্ব কার্যকর ধরা হচ্ছে সেই দিন থেকেই, যেদিন ওই দু’জন ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সম্ভাব্য সামাজিক হেনস্থার কথা মাথায় রেখে তিনি তাঁদের নাম প্রকাশ করেননি।
উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর পাশ হয়। এই আইন ঘিরে বিশেষ করে অসমে ব্যাপক আন্দোলন ও প্রতিবাদ হয়েছিল। গত বছর সিএএ-এর নিয়মাবলি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশের পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৪০ জন এই আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন।
এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষ - যাঁরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।
অসমে প্রায় দু’লক্ষ মানুষকে সন্দেহজনক নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সিএএ-এর আওতায় আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিকবার বলেছেন, অসমে বসবাসকারী অধিকাংশ হিন্দু ১৯৭১ সালের কাট-অফের আগেই রাজ্যে চলে এসেছিলেন।