শপথের পর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, কোন দেশে পা রাখবেন তারেক রহমান? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব।

মোদী-তারেক
শেষ আপডেট: 16 February 2026 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিপুল সাফল্যর পর এখন শপথের পথে তারেক রহমান (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লি চাইছে ব্যবধানে শপথ নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ভারত সফরে আসুন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি (Vikram Misri - Dhaka)।
তারেক রহমানের (Tarique Rahman swearing in )শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। তিনি দিল্লি ও মুম্বইতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যস্ত থাকার কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। নয়া দিল্লির তরফে ঢাকাকে জানানো হয়েছে ওই সফরের স্পিকারের সঙ্গী হবেন ভারতের বিদেশ সচিব মিস্রিও।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত যে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির তরফে তা নিয়ে উপর্যুপরি বার্তা দিয়েছে সাউথ ব্লক। তারেক বিএনপি'র চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। তার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন তথা বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্তিম যাত্রায় অংশ নেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
বিএনপি'র বিপুল জয়ের পর শুক্রবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পর ফোনেও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তখনই তাঁকে শপথ নেওয়ার পর ভারত সফরে আসতে মৌখিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তারেককে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। তিনিও তারেক রহমানকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ফলে কূটনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান বেজিং ইসলামাবাদ নাকি নিকট প্রতিবেশী ভারতের রাজধানীর নয়াদিল্লিতে প্রথম পা রাখবেন।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, গত আঠারো মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক যেভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে নয়াদিল্লি তার দ্রুত মেরামত চাইছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত করতেই প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমান যাতে ভারত সফরে আসেন সে ব্যাপারে আগেভাগে তৎপর হয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে তাঁর দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন। ফলে দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক প্রথম কোন দেশে যাবেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েছেই।
ঢাকার একটি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে এই জটিলতা এড়াতে তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোন দেশ অথবা আমেরিকার সফরে প্রথমে যেতে পারেন।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান তার বিদেশ নীতি সম্পর্কে বার বার বলেছেন কোনও একটি দেশের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের পথে পা বাড়াবে না তাঁর সরকার। তাঁর বিদেশনীতি হবে স্বাধীন ও সাবলক। বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি নেতারাও একই কথা বার বার শুনিয়ে দিয়েছেন। তারেক স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সরকারের বিদেশনীতির মূল মন্ত্র হবে একটাই—'সবার আগে বাংলাদেশ'।
তবে নয়াদিল্লির কাছে তাগিদ অন্য। ঢাকার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক উপ মাহাদেশের শান্তি ও সুরক্ষার পরিস্থিতির জন্য অপরিহার্য। উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে যে স্থবিরতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তৈরি হয়েছিল, সেই জাঢ্য দ্রুত কাটানোই তাই লক্ষ্য। এবং সেটা তখনই সম্ভব যখন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হবে।
তারেক রহমান নয়াদিল্লিতে এলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠক ছাড়াও একাধিক বিষয়ে দু'দেশের মধ্যে কথা হতে পারে। তারমধ্যে অন্যতম হলো গঙ্গার জল চুক্তির পুনর্নবীকরণ। ৩০ বছর আগে সম্পাদিত ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬-এ। ইতিমধ্যে দুই দেশের অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ার পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অনেকদূর গড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে গঙ্গা চুক্তির পুনর্নবীকরণ দিয়ে দু'দেশের মধ্যে সু-সম্পর্কের শুভ সূচনা হতে পারে। এই ব্যাপারে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলে বাকি কাজ সহজে হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।