বিপুল জয় সত্ত্বেও ছোট মন্ত্রিসভাই রাখছেন তারেক, শপথগ্রহণে থাকছেন না ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়েই জোর আলোচনা।

তারেক জিয়া
শেষ আপডেট: 16 February 2026 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানালেও তিনি মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন বলে, সরকারি মহল থেকে জানানো হয়েছে।
তারেকের শপথে থাকছেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল। এখনও পর্যন্ত শীর্ষ রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিত থাকার কথা।
সার্কভুক্ত দেশগুলির সব রাষ্ট্রপ্রধানদের ডাকা হলেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি আফগানিস্তানকে। মনে করা হচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্ব এখনও মনস্থির করে উঠতে পারেননি। পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবান সরকারের তুমুল বিরোধ চলছে। অন্যদিকে সরকারিভাবে আফগানিস্তানের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে তালেবানের। এইসব অংক বিবেচনায় রেখেও আফগানিস্তানকে আমন্ত্রণ না জানানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চে শপথ নেবেন তারেক রহমান। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে প্রায় ১২০০ জনকে।
বিএনপি জোট এবার ২১২ আসনে জয়ী হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপি এককভাবে জয়ী হয়েছে ২০৯ আসনে। এই নিরঙ্কুশ জয়ের পরেও তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভা যথাসম্ভব ছোট রাখার চেষ্টা করছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, অতীতের ৪০-৫০ জনের মন্ত্রিসভা হলেও তারের চাইছেন ৩০ জনকে নিয়ে কাজ করতে।
বিএনপি'র এক শীর্ষ নেতা বলেন, দলের তরফে এবার প্রধান যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেটি হল সুশাসন বাস্তবায়ন। এটা করতে হলে মাথা ভারী মন্ত্রিসভা দিয়ে সম্ভব হবে না। বরং ছোট মন্ত্রিসভার মধ্যে সমন্বয় হতে পারে সবচেয়ে ভাল। গত শনিবার তারিখ রহমান সাংবাদিক বৈঠক করেও জানিয়েছেন তিনি জোর দিচ্ছেন সুশাসন প্রতিষ্ঠায়। মন্ত্রিসভা ও গড়বেন সেই ভাবনাকে সামনে রেখে।
জানা গিয়েছে অভিজ্ঞতা তারুণ্য নারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে মন্ত্রিসভায়। এখনো পর্যন্ত আলোচনায় আছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু সহ বেশ কয়েকজন।
দলের মহিলা এমপিদের মধ্যে নাম আছে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সামা ওবায়াদের। নবীন মুখ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী অথবা উপমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেতে পারেন লক্ষীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি'র শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, টাঙ্গাইল পাঁচ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা ছয় আসনে জয়ী ইশরাক হোসেন। বিএনপির শরিক দলগুলির মধ্যে থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিব রহমান পার্থ এবং গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ তাকি ও গণধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুলকে মন্ত্রী করার ভাবনা রয়েছে তারেক রহমানের।
নির্বাচনে দলের তরফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন প্রবীর নেতা নজরুল ইসলাম খান। তিনি নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ছিলেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান। একাধিক সূত্র জানাচ্ছে তারেক রহমান দলের এই প্রবীণ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নজরুল ইসলাম খান হবেন তারেকের পর মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি।