
বি আর আম্বেদকর
শেষ আপডেট: 19 December 2024 22:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীদের কটাক্ষ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীব অমিত শাহ সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব ভীম রাও আম্বেদকরকে নিয়ে যা বলেছেন, তা চরম বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। অমিত শাহ বলেছেন, কথায় কথায় আম্বেদকরের নাম আনাটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। যেভাবে বাবাসাহেবের (Ambedkar Controversy) নাম উচ্চারণ করেছেন অমিত শাহ তাতে দেশের বিপুল সংখ্যক দলিত যারপরনাই অসন্তুষ্ট। সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে এ নিয়েই বিরোধীরা তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই তাঁদের সেই সেই প্রতিবাদ সভায় দেখা যাচ্ছে নীল রঙের সমাহার। কারণ দলিত আন্দোলনের সঙ্গে এই রঙ ওতোপ্রত ভাবে জড়িত।
অনেকেই কথা কথায় ব্লু ব্লাড শব্দটি ব্যবহার করেন। যা বলতে অভিজাত এবং প্রিভিলেজড শ্রেণিকে বোঝায়। কিন্তু সেই নীল রঙই কীভাবে দলিত আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছিল তা অনুসন্ধান করার মতই বিষয়।
আম্বেদকর মহাসভার লালজি নির্মলের মতে, নীল রঙ ছিল বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের অত্যন্ত প্রিয় রঙ। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এই নীল রঙ অধিক ব্যবহার করতে আম্বেদকর।
দলিত লেখক ও উদ্যোক্তা চন্দ্রভান প্রসাদের মতে, “মনুধর্ম, বা মনুস্মৃতি, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর অধিকার ও কর্তব্যকে বর্ণপ্রথার ভিত্তিতে পূর্বনির্ধারিত করেছে। সেই অনুযায়ী, বলা হয় যে দলিতরা কেবল মৃত ব্যক্তিদের পোশাক বা ছেঁড়া, পুরনো, মলিন কাপড় পরতে পারে। আমাদের ভালো পোশাক পরা বা পরিষ্কার থাকা নিষিদ্ধ।” তাঁর কথায়, আম্বেদকরের নীল রঙের স্যুট পরতেন। এই রঙ ছিল “রাজনৈতিক প্রতিরোধ”-এর প্রতীক, যা দলিতদের জন্য নির্ধারিত পোশাকের বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ ছিল।
২০০২ সালে, রামচন্দ্র গুহ আম্বেদকর সম্পর্কে লিখেছিলেন, “ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নিয়ম অনুযায়ী, এই মানুষটির স্যুট পরার কথা ছিল না, নীল হোক বা অন্য কোনো রঙের। তিনি এটি পরতে পেরেছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের কারণে: আইনের ডিগ্রি... আমেরিকা থেকে একটি পিএইচডি এবং ইংল্যান্ড থেকে আরেকটি, সংবিধান প্রণয়নের কাজ। দলিতরা তাঁকে স্যুট পরা ছবি স্মরণ করে আসলে উচ্চবর্ণের দুর্গ জয় করার সফল্যকে উদযাপন করেন।”
আবার ইলাইয়ার মতে, আম্বেদকর তাঁর স্যুটের জন্য নীল রঙ পছন্দ করেছিলেন, কারণ এটি নীল আকাশের রূপক। যে নীল আকাশের নিচে সবাই সমান। তিনি আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা লাভ করেছিলেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সব রাষ্ট্রপতি নীল স্যুট পরতেন। সম্ভবত, এটি তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। আমেরিকায় নীল রঙ গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র ও সাম্যের প্রতীক—এই ধারণাগুলি আম্বেদকরের কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৪২ সালে আম্বেদকর প্রতিষ্ঠিত ‘শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া’-র নিশান তথা পতাকার রঙ ছিল নীল। সেই পতাকার কেন্দ্রে ছিল অশোক চক্র। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৬ সালে রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়াও একই নীল পতাকাকে গ্রহণ করে।
দলিত অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা এস আর দারাপুরিও বলেছেন, “নীল আকাশের মতো এই রঙ বৃহৎ এবং অসীম। এটি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নীল রঙ দলিত পরিচিতির এক সার্বজনীন বার্তা দেয়। আকাশের নীচে সবাই সমান—এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই নীল রঙ দলিত প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।