
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 December 2024 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দৈনন্দিন খরচের প্রবণতায় বদল ঘটছে। নুন-চিনি কেনার খরচের জায়গায় নরম পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের খরচ বেড়েছে দেশে। আরও আশ্চর্যজনকভাবে গ্রাম এবং শহর দুটি ক্ষেত্রেই এই জাতীয় খরচের বহরের ফারাক একেবারে কমে এসেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রতি মাসে মাথাপিছু গড়পরতা খরচ ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ৪১২২ টাকায় পৌঁছেছে। ২০২২-২৩ সালে যা ছিল মাথাপিছু মাসিক খরচ ৩৭৭৩ টাকা। অর্থাৎ একবছরে ৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। শহর এলাকায় এই খরচ ৬৯৯৬ টাকা। যা একবছরের মধ্যে কীভাবে বিভিন্ন পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তার প্রমাণ।
খাদ্যদ্রব্যের আগুন বাজারের সঙ্কেত দিয়ে গার্হস্থ্য ভোগ্যপণ্য ব্যয় সমীক্ষা ২০২৩-২৪ ( Household Consumption Expenditure Survey 2023-24) বলছে, গ্রামীণ ও শহুরে দুই ক্ষেত্রেই একটি পরিবার চালাতে মাসিক খরচ বহুগুণ বেড়েছে। এই খরচের বহরে বিরাট অংশ ব্যয় হচ্ছে খাদ্যদ্রব্য নয় এমন ভোগ্যপণ্যে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক প্রকাশিত এই সমীক্ষাতেই দেশজুড়ে কীভাবে সমস্ত জিনিসের দাম বেড়েছে তার ছবি ধরা পড়েছে। এতে স্পষ্টতই ইঙ্গিত মিলেছে যে, মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্তের মতো সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে কীভাবে হিমশিম খাচ্ছেন।
এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে খরচের প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে গ্রামীণ ভারতের খরচও প্রতিযোগিতা দিচ্ছে। আগের আর্থিক বছরেও যে ফারাক ছিল, তা চলতি বছরে অনেক কমে এসেছে। একইসঙ্গে এতে বোঝা গিয়েছে, শহর এলাকায় ভোগ্যপণ্য খরচ বাবদ প্রতিটি সংসারে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছেন গৃহস্থ। রাজ্য ধরে ধরে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণী রাজ্যগুলি যেমন- মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, কেরল, কর্নাটক, হরিয়ানা, গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ মাথাপিছু মাসিক খরচে জাতীয় গড়ের থেকেও উপরে রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগড়ের মতো রাজ্য পিছনের সারিতে রয়েছে।
ভোগ্যপণ্যের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য নয়, এমন সামগ্রীতে খরচ অনেকটা বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শহুরে এলাকার বাড়িভাড়া ও শিক্ষা খরচ। এছাড়াও পোশাক, বিছানা, জুতো, বিবিধ সামগ্রী এবং বিনোদন ও স্থায়ী জিনিস কেনাতে বিরাট খরচ বেড়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে উপরে রয়েছে নরম পানীয়, ফলের রস, প্রক্রিয়াজাত খাবার। তারপরে রয়েছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য, সবজি। এ ব্যাপারেও গ্রামীণ ও শহুরে মানুষের খরচ খুব কাছাকাছি। পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সবজি, ফল, মাংস, ডিম ও মাছের খরচ প্রায় একইরকম।