‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মুখে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে মহিলা অফিসারদের অপমান ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

কর্নেল সোফিয়া ও অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদ।
শেষ আপডেট: 18 May 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য গ্রেফতার হতে হল অধ্যাপককে! অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ,সোশ্যাল মিয়ায় সেনাবাহিনীরমহিলা অফিসারদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন তিনি এবং জাতিগত উত্তেজনা উস্কে দিয়েছেন।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতিহাসবিদ ও লেখক রামচন্দ্র গুহ। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি পোস্ট করে লেখেন, 'মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি।' অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিপন্নতার কথাই বলতে চেয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় অশোকা বিশ্ববিদ্যালয় সোনেপতের ক্যাম্পাসের তরফেও এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'আমাদের অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে আজ সকালে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমরা বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি এবং পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।'
কী বলেছিলেন অধ্যাপক মাহমুদাবাদ?
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক মাহমুদাবাদ লেখেন: 'অনেক ডানপন্থী সমর্থক কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করছেন। এটা ভা। তবে তাঁরা যদি একইরকম জোরালোভাবে গণপিটুনি, বুলডোজার অভিযান ও ঘৃণার রাজনীতির শিকার মুসলিম নাগরিকদেরও রক্ষা করার দাবি তোলেন, তা হলে সেটাই প্রকৃত দেশপ্রেম হবে।'
পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, 'এই ধরনের জাতীয় ব্রিফিং শুধু বাহ্যিক শোভা বা ‘অপটিক্স’, যা আসলে দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়।'
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়। হরিয়ানা রাজ্য মহিলা কমিশনও নিজে থেকেই বিষয়টির তদন্তে নেমে অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে নোটিশ পাঠায়। তাঁদের দাবি, এই মন্তব্য শুধু ভারতীয় সেনার মহিলা অফিসারদের অবমাননা করেছে না, বরং সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর মতো মন্তব্যও এতে রয়েছে।
কমিশনের মতে, তিনি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা সেনাবাহিনীর মহিলা সদস্যদের সম্মানহানি ঘটাতে পারে এবং সমাজে অশান্তি তৈরি করতে সক্ষম।
তবে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অধ্যাপক মাহমুদাবাদ বলেন, 'আমার মন্তব্যে কোথাও নারীবিদ্বেষ নেই। আমি বরং প্রশংসা করেছি যে একজন মুসলিম নারী অফিসারকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে সামিল করা হয়েছে। আমি শুধু বলতে চেয়েছি, এই অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা যেন দেশের অন্যান্য মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও দেখানো হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'মহিলা কমিশনের পাঠানো নোটিশে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। আমার পোস্ট সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেনা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার দিকেই জোর দিয়েছি।'
৭ মে রাতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে বড়সড় হামলা চালিয়ে সফল হয়। এই অভিযানের পর সংবাদমাধ্যমে মুখোমুখি হন সেনা কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। এই মহিলা অফিসারদের উপস্থিতি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নিয়ে চর্চা শুরু হয় দেশজুড়ে। বয়ে যায় প্রশংসার ঝড়।