
এএসআইয়ের খননকার্যের সময় এর খোঁজ মেলে।
শেষ আপডেট: 23 December 2024 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৫৭ সালের ইংরেজ বিদ্রোহী সিপাহিদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গপথের সন্ধান মিলল। একইসঙ্গে একটি কুঁয়ো বা সিঁড়ি দিয়ে নামার পরিত্যক্ত জলকূপ, যাকে ভাও বলা হয়, তারও সন্ধান পেয়েছে দেশের পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের চান্দৌসির লক্ষ্মণগঞ্জ এলাকায় জবরদখল মুক্ত করার কাজে এএসআইয়ের খননকার্যের সময় এর খোঁজ মেলে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাওটি আনুমানিক ১৫০ বছরের পুরনো। এলাকার বাঁকেবিহারী মন্দিরের কাছে এই দুটি আবিষ্কৃত হয়েছে। ওই এলাকায় বর্তমানে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে খননকার্য চালানোর সময় মেরামতির অভাবে মন্দিরের একাংশ ধসে পড়লে মাটির তলা থেকে সুড়ঙ্গ ও কূপের খোঁজ মিলেছে। গত রবিবার সম্ভলের জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেনসিয়া এবং পুলিশ সুপার কৃষনকুমার বিষ্ণোই ওই এলাকা পরিদর্শনে যান।
জেলাশাসক বলেন, ভাও বা বাওলিটি অন্তত ৪০০ বর্গমিটার জুড়ে ছিল। রাজস্ব দফতরের রেকর্ডে এটিকে পুকুর হিসেবে লেখা রয়েছে। কোনও ক্ষতি না করে খননকার্য চলছে। বাওলিতে চারটি কুয়ো রয়েছে। কয়েকটি ধাপ মার্বেল পাথরে নির্মিত। এই এলাকার চারপাশে যে জবরদখল আছে, তা সরিয়ে ফেলা হবে। উল্লেখ্য, সম্ভলে সপ্তাহখানেক আগেই হনুমান মন্দির এইভাবেই আবিষ্কৃত হয় এবং ৪৬ বছর পর তা পুনরায় খুলেও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই কুয়ো তৈরি হয়েছিল বিল্লারি রাজ জমানায়, রাজবংশের মায়ের পক্ষে দাদুর আমলে। কুয়োর উপরের অংশটি ইট দিয়ে গাঁথা হলেও নীচের দিকের তিনটি তলা মার্বেল পাথরের। এলাকাবাসীর বক্তব্য, সুড়ঙ্গটি ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের আমলে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্রিটিশ শক্তির হাত থেকে পালাতে সুড়ঙ্গপথটি বানিয়েছিলেন সিপাহিরা। স্থানীয় এক ঐতিহাসিকের মতে, ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠ ও সুড়ঙ্গ বিদ্রোহী সেনাদের নিরাপত্তা পক্ষে খুবই জটিল বিষয় হতে পারত।