.jpeg)
শেষ আপডেট: 21 February 2025 00:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু’দশক পর, সমুদ্রের অতলে লুকিয়ে থাকা দ্বারকার রহস্য উন্মোচনে নেমেছে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ (ASI)। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণের কর্মভূমি (Krishna Karmabhoomi) ছিল অধুনা গুজরাতের উপকূলে। সেখানে নতুন করে শুরু হয়েছে গবেষণা ও সংরক্ষণের প্রয়াস।
দ্বারকার সন্ধানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ‘আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি উইং’ (UAW) পাঁচ সদস্যের একটি দল পাঠিয়েছে। অতিরিক্ত মহা নির্দেশক অধ্যাপক অলোক ত্রিপাঠির নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে একাধিক মহিলা প্রত্নতাত্ত্বিকও অংশ নিয়েছেন।
সমুদ্রের নিচে দ্বারকা (Dwarka)— পৌরাণ্যিক কাহিনি না বাস্তব সত্য?
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, কৃষ্ণ মথুরা ছেড়ে এসে গুজরাতে দ্বারকা নগরী গড়ে তোলেন। পরে তাঁর মহাপ্রয়াণের পর, কলিযুগের সূচনা হয় এবং এই নগরী সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে গবেষকদের কাছে এই স্থান কেবল একটা পৌরাণিক কাহিনিই ছিল। তবে ১৯৮০ সালের পর থেকে একাধিক সামুদ্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা দ্বারকার অস্তিত্ব নিয়ে নতুন তথ্য এনে দেয়।
১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে চালানো সমীক্ষায় প্রাচীন নগরীর দুর্গপ্রাচীর, পাথরের স্তম্ভ, নোঙর, সেচব্যবস্থার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে শেষবার দ্বারকায় গবেষণা হয়েছিল। এবার নতুন করে দ্বারকার অতলে লুকিয়ে থাকা ইতিহাসের সন্ধানে নেমেছে প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ।
নতুন অভিযানের লক্ষ্য কী?
গোমতী খাঁড়ির কাছে অভিযান শুরু করেছেন গবেষকরা। দ্বারকা এবং বেট দ্বারকা অঞ্চলে জলের তলায় গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের চেষ্টা চালাবেন। তার পর প্রাপ্ত সেই সব সামগ্রী বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্বারকার প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকদের মতে, দ্বারকা শুধু পৌরাণিক শহর নয়, এটি ছিল একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সংস্কৃত ভাষায় ‘দ্বারকা’ শব্দের অর্থ ‘দ্বার’ বা প্রবেশদ্বার, যা ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের পথ খুলে দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারকাধীশ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সমুদ্রগর্ভে স্কুবা ডাইভিং করে দ্বারকার অস্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেছিলেন, “আমাদের শাস্ত্রে বর্ণিত দ্বারকার উঁচু প্রাসাদ, সুসজ্জিত প্রবেশদ্বার এবং মহানগরের নিদর্শন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণাতেও উঠে আসছে।”
গবেষকদের মতে, দ্বারকার বাস্তব নিদর্শন উদ্ধার করা সম্ভব হলে, তা শুধুমাত্র পৌরাণিক ইতিহাসের নয়, ভারতের হারিয়ে যাওয়া এক সমুদ্রগর্ভস্থ নগরীরও অস্তিত্ব প্রমাণ করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ জানাচ্ছে, এই গবেষণা শুধু দ্বারকার নয়, ভারতের সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে সমুদ্রের অতলে কৃষ্ণের শহর সত্যিই লুকিয়ে আছে কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে!