
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 16 May 2024 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার বছরের এক শিশুকন্যার আঙুলের অপারেশনের জায়গায় 'ভুল করে' জিভের অস্ত্রোপচার করে দিলেন ডাক্তার। চোখ কপালে তোলার মতো এই ঘটনা ঘটেছে কেরলের কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। চিকিৎসার এই ভয়ানক গাফিলতি নিয়ে প্রথামাফিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির বাড়ির লোকের দাবি, বাচ্চা মেয়েটির একটি হাতে ছয়টি আঙুল ছিল। অতিরিক্ত সেই আঙুলটি সামান্য একটি অস্ত্রোপচারেই কেটে ফেলা সম্ভব। সেই চিকিৎসা করাতেই তাঁদের হাসপাতালে আসা।
বাড়ির এক আত্মীয় বলেন, ডাক্তাররা বলেছিলেন খুবই সামান্য অস্ত্রোপচারেই ষষ্ঠ আঙুলটি বাদ দেওয়া সম্ভব। খুবই ছোটখাট অপারেশন করলেই হবে। তাই আমরা ডাক্তারদের পরামর্শমতো অস্ত্রোপচার করাতে রাজি হই।
তাঁরা বলেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ওটি থেকে বের করতেই দেখা যায় বাচ্চার চোয়াল-মুখ ঢেকে ব্যান্ডেজ বাঁধা। দেখে আমরা আঁতকে উঠি। আমরা তখনও বুঝতে উঠতে পারিনি, কী ঘটেছে ওটিতে। ওর হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি, যে আঙুল কেটে বাদ দেওয়ার কথা, সেটি রয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সঙ্গে সঙ্গে আমরা কর্তব্যরত নার্সকে জানাই। আমাদের কথা শুনে তিনি হাসতে থাকেন। এরপর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, ওর জিভে একটা জন্মগত সমস্যা ছিল। সেটা ধরতে পেরে তার অপারেশন করে দেওয়া হয়েছে। যার সম্পর্কে আমাদের ঘূণাক্ষরেও কিছু জানানো হয়নি।
ডাক্তার এসে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভুল হয়ে গিয়েছে বলে স্বীকার করে নেন। এবং বাচ্চার আঙুল অপারেশনের জন্য ফের ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, বলেন ওই আত্মীয়। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার হইচই পড়ে যায়। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে কাঠগড়ায় তুলে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধনা করেন।
বাড়ির লোকের অনুমতি না নিয়ে কী করে আঙুলের জায়গায় জিভের অপারেশন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, যে সার্জনের অপারেশন করার কথা ছিল তিনি ওটিতে ঢুকে দেখেন বাচ্চাটির টাং-টাই নামে জিভের একটি সমস্যা আছে। জিভের তলার দিকে যে পেশির দ্বারা মুখের তলদেশের সঙ্গে জোড়া লাগানো থাকে সেটি শক্ত হয়ে থাকাকে এই সমস্যা বলে।
সুপার বলেন, সার্জন তা দেখে আঙুল বাদ দেওয়ার বদলে বাচ্চাটির জিভে অপারেশন করে দেন, যাতে বড় হলে এই সমস্যা আর না বাড়ে। কিন্তু, এই অস্ত্রোপচারের আগে বাবা-মায়ের অনুমতি কিংবা সম্মতি নেওয়া হয়নি। যা গর্হিত অন্যায় বলে মনে করেন তিনি।
হাসপাতাল সুপার বলেন, যা হয়েছে মেয়েটির ভালোর জন্যই হয়েছে। কেবলমাত্র অনুমতি না নেওয়ার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। আমি স্বীকার করছি, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, এদিন হাসপাতালে ১৬টি অস্ত্রোপচার ছিল। যে অপারেশন হয়েছে, তাতে ওর ভালো বই ক্ষতি কিছু হবে না।