
শেষ আপডেট: 29 December 2023 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন উলফা (ইউনাইটেড লিরারেশন ফ্রন্ট অফ অসম)-র আলোচনাপন্থীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হল শুক্রবার। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উলফার তরফে হাজির ছিলেন অরবিন্দ রাজখাওয়া ও তাঁর অনুগামীরা।
কিন্তু শীর্ষ নেতা পরেশ বরুয়া এই আলোচনায় অংশ নেননি। চুক্তির খসড়া তিনি আগেই খারিজ করেছিলেন। ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কোনও এক গোপন স্থানে বাস করেন পরেশ। ফলে শুক্রবারের চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরের পর দু’পক্ষই শান্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
মণিপুরে কুকি ও মেইতেইদের মধ্যে জাতিদাঙ্গায় রক্তক্ষয় বন্ধ হলেও দু’পক্ষের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। এক পক্ষ আর এক পক্ষের এলাকায় যেতে পারছে না। কুকিরা ইতিমধ্যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাবি করেছে। কুকিদের দুটি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ফোরাম এবং কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। মণিপুরের চলমান সংকটের সময় অসম নিয়ে শান্তি চুক্তি উত্তর-পূর্বের রাজনীতিতে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে সেটাই দেখার। চুক্তি অনুযায়ী অসমের আদি বাসিন্দাদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১৯৭৯ সালে তৈরি উলফা পৃথক অসমের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। দাবি আদায়ে জঙ্গি কার্যকলাপের আশ্রয় নেয় তারা। উলফার আক্রমণে প্রাণ যায় বহু মানুষের। নয়ের দশকের গোড়ায় এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারত সরকার।
পাশাপাশি ভারত ও ভুটানের সেনা একই সঙ্গে উলফা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অপারেশন অভিযান চালায়। তারপর উলফার একাংশ আত্মসমর্পণ করে। আত্ম সমর্পণের পর চলতে থাকে দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন। শুক্রবার যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তার জন্য ১২ বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলে।