অর্থনীতেতে নোবেলজয়ীর মতে, এর ফলে গরিব মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। অর্থনীতেতে নোবেলজয়ীর মতে, এর ফলে গরিব মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অমর্ত্য সেন বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন খুব সতর্কভাবে না করা হলে এর ফলে বিরাট সংখ্যক গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এছাড়াও যেসব ভারতীয় নাগরিকের কাছে প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট কাগজপত্র নেই, তাঁদের কাছে কঠিন কঠিন সব প্রমাণ দাখিলের স্বচ্ছতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমর্ত্য সেন। যদিও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সময়-অন্তর ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কিন্তু তার মানে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মূল চোকাতে হবে, তাও যেন না হয়- মনে করেন অর্মত্যবাবু।
REL
শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিভিন্ন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন-বিয়োজন প্রয়োজন। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে কেউ গরিবের অধিকারের বিনিময়ে ভাল ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে পারে না। তিনি সঠিক ভাবধারা ও সদর্থক ভূমিকার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর দাবি, এখনও অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের কাছে নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণই নেই। তার ফলে তাঁদের কি ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়তে হবে।
সামান্য কিছু ভাল করতে গিয়ে যদি বহু লোকের ক্ষতি হয়, তাহলে তাকে বিরাট ভুল বলতেই হবে, বলেন অর্মত্য সেন। তাঁর ভাষায়, একটি ভুল শুধরাতে গিয়ে আপনি কি সাতটি নতুন ভুলকে যুক্তিসঙ্গত মনে করবেন, প্রশ্ন রাখেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে গোটা দেশজুড়ে বিরোধীরা উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিহারের তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়াকে বিরোধী জোট শরিকরা ইচ্ছাকৃত ও বিজেপির ফন্দি বলে ব্যাখ্যা করেছে। যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে, সেই শুনানি চলছে। এই পরিস্থিতিতে অর্মত্য সেনের উদ্বেগও বিরোধীদের আরও অক্সিজেন জোগাল। তাঁর কথায় স্পষ্ট যে, রক্ষাকবচ না এঁটে এই পদক্ষেপে বহু যোগ্য ভোটার বাতিল বলে বিবেচিত হবেন।