
শেষ আপডেট: 9 November 2023 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচদিনের হাঁটা নয়, এবার ‘বরফানি বাবা’র দর্শন পেতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। একেবারে পাকা, কংক্রিটের রাস্তা ধরে গাড়িতে চেপে হুস করে পৌঁছে যাওয়া যাবে বাবা অমরনাথের দুয়ারে। পুণ্যার্থীদের কষ্ট লাঘবে এমনই এক অসাধ্য সাধন করে ফেলছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন। চন্দনওয়াড়ি এবং বালতাল, দু’দিকের রাস্তাতেই এই সুবিধা মিলবে।
আর এতেই কাশ্মীরের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এবং প্রকৃতি বিশেষজ্ঞরা বেশ ক্ষুব্ধ। তাঁদের আশঙ্কা, পাহাড় কেটে কংক্রিটের রাস্তা কিংবা টানেল তৈরি হলে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে পারে কাশ্মীরে। এমন করতে গিয়ে অমরনাথ গুহাকেই শেষে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না তো! এই প্রশ্ন তুলেছে কাশ্মীরের প্রাক্তন শাসকদল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, ওরফে পিডিপি।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও থেকে শুরু হয় এই অমরনাথ যাত্রা। সেখান থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা। পথ এতটাই বন্ধুর যে, পুণ্যার্থীদের এই রাস্তা পার করে অমরনাথ পৌঁছতে লেগে যায় ৫ দিন। প্রথমে চন্দনওয়াড়ি ক্যাম্প। সেখান থেকে পিসু টপ, শেষনাগ, সঙ্গম হয়ে তবে পৌঁছনো যায় অমরনাথ গুহার সামনে। স্রেফ ভক্তির জোরেই এই পথে প্রতি বছর পাড়ি জমান লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী।
এবছর অমরনাথ যাত্রার জন্য কেন্দ্রের তরফে মোট ৬২ দিন বরাদ্দ ছিল। মোট সাড়ে ৪ লক্ষ পুণ্যার্থী সেখানে গিয়েছিলেন। তার বহু আগেই তাঁদের কষ্ট লাঘবে ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ অমরনাথ মার্গের কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকরি। এই রাস্তা তৈরিতে খরচ ধার্য হয়েছিল ৫৩০০ কোটি টাকা। গতবছর থেকেই শুরু হয়েছে এই রাস্তা তৈরির কাজ।
তবে বিরোধীরা কিছুতেই এই প্রকল্পকে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা বারবার উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। পিডিপির মুখপাত্র মোহিত ভান বলেছেন, “এই প্রকল্প হিন্দুধর্ম এবং প্রকৃতির প্রতি হওয়া সবচেয়ে বড় অপরাধ। কাশ্মীরের কল্যাণে অবিলম্বে এই প্রকল্প বন্ধ হওয়া দরকার।” কাশ্মীরের সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামিও এর সমালোচনা করেছেন।
বিজেপি অবশ্য বিরোধীদের কথা মানতে চাইছে না। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই রাস্তা নির্মাণে প্রকৃতির কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। প্রাকৃতিক ভারসাম্যের দিকে নজর রেখেই রাস্তা তৈরি হচ্ছে। রাস্তা চওড়া করার সময় একটি গাছও কাটা হয়নি। বিআরও-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাও জানিয়েছেন, গোটা প্রকল্পে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের দিকে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। বিপর্যয়ের ভয় নেই।