
রাষ্ট্রসংঘে সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামের বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে।
শেষ আপডেট: 30 November 2024 09:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিথ্যা, অতিরঞ্জিত বলে দাবি করল বাংলাদেশ। সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামের ১৭ তম অধিবেশন শুরু হয়েছে শুক্রবার। সেখানে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মহম্মদ আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের যে ঘটনার কথা প্রচার করা হচ্ছে তা বানানো এবং অতিরঞ্জিত।
ঘটনাচক্রে জেনিভায় এই অধিবেশন চলাকালে চট্টগ্রামে পাথরঘাটায় হিন্দু মহল্লায় হামলা চালাচ্ছিল উগ্র ইসলামপন্থীরা। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিএসএফের ড. রায়হান রশিদ ভাষণে বলেন, আমি এমন সময় ভাষণ দিচ্ছি যখন চট্টগ্রামে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মন্দিরে হামলা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা দিয়ে জুমার নমাজের পর হামলা শুরু হয়। আমি ওই এলাকায় বড় হয়েছি। আমি জানি সেখানকার পরিস্থিতি।
জবাবে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, আমাদের দেশ যখন ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে তুলছে তখন মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে আহ্বান জানাচ্ছি, বাংলাদেশে গিয়ে সরজমিনে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হোক।
এর আগে রায়হান বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি কখনই খুব ভাল ছিল না। কিন্তু মহম্মদ ইউনুসের বিগত একশো দিনের জমানায় সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন মাত্রা ছাড়িয়েছে।
এদিকে, সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর হামলা, নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে ভারত সরব হওয়ায় পাল্টা নিশানা করেছে বাংলাদেশ। সে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক নেতা ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন। আলোচনায় টেনেছেন বাবরি থেকে সম্ভলের মসজিদ প্রসঙ্গ।
বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়। সেখানে তাদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের ঘটনাগুলি নিয়ে ভারত সরকার নীরব।
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে সত্য ঘটনা তুলে ধরে ভারতের প্রচারের জবাব দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরও মিথ্যা রটনার অভিযোগ করেছেন। ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজে একাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের প্রবীন অধ্যাপক শামিম রেজার মতে, ভারতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সব সংখ্যালঘুর জন্য ব্যাক ফায়ার করছে। সংখ্যালঘুদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের অভিযোগ ভারতের বিরুদ্ধেও আছে। নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা অভিযোগ নিয়ে অশাম্তি বেড়ে যাওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।
একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার প্রকৃত ঘটনা, যেগুলি সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষ ওয়াকিবহাল, সেগুলি আড়াল করার অভিযোগ যেন না ওঠে। সরকারের উচিত খোলাখুলি সেগুলি স্বীকার করা, ব্যবস্থা নেওয়া।
রাষ্ট্রসংঘে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দাবি করেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু বলে কারও উপর হামলা করা হয়নি। হামলা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। তাতে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, অর্থাৎ মুসলিমরাই আক্রান্ত হয়েছেন বেশি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নিহত আইনজীবী একজন মুসলিম।