আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বাবা-মা বা ভাইবোনের দায়িত্ব থাকলেও তা স্বামীর আইনি কর্তব্যকে খর্ব করতে পারে না (Allahabad High Court maintenance ruling)।

পরিবারের দায়িত্ব স্বামীর আইনি কর্তব্যকে খর্ব করতে পারে না, জানিয়েছে আদালত
শেষ আপডেট: 2 April 2026 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর ভরণপোষণের দায় (wife maintenance law India) এড়াতে পারিবারিক দায়িত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না - গুরুত্বপূর্ণ এক মামলায় এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court)। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বাবা-মা বা ভাইবোনের দায়িত্ব থাকলেও তা স্বামীর আইনি কর্তব্যকে খর্ব করতে পারে না (Allahabad High Court maintenance ruling)।
সম্প্রতি এক রেলকর্মীর দায়ের করা ফৌজদারি আবেদন খারিজ করতে গিয়ে এই পর্যবেক্ষণ করে হাইকোর্ট। ওই ব্যক্তি এটাওয়াহা-র ফ্যামিলি কোর্টের একটি নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ফ্যামিলি কোর্ট তাঁর স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল, যা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি।
এর আগে, পরিবার আদালত স্ত্রীর মাসিক ভরণপোষণ ৩,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮,০০০ টাকা এবং নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করে। তবে আবেদনকারী দাবি করেন, এই বর্ধিত অঙ্ক তাঁর আর্থিক সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি - এমনটাই জানা গিয়েছে 'লাইভ ল'-এর একটি প্রতিবেদন সূত্রে।
মামলাটির শুনানি চলছিল বিচারপতি বিনোদ দিবাকরের বেঞ্চ। আদালত ওই ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে জানায়, ফ্যামিলি কোর্ট স্বামীর আয়, উভয় পক্ষের সামাজিক অবস্থান এবং স্ত্রী ও সন্তানের প্রয়োজন - সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ নেই।
আবেদনকারী, যিনি রেলের গ্রুপ-ডি পদে কীম্যান হিসেবে কর্মরত, আদালতে জানান তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখভাল এবং অবিবাহিত ভাইবোনদের খরচ বহনের দায়িত্বও তাঁর উপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সব দায়িত্ব মিলিয়ে তাঁর উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মাসে ৫৫ হাজার টাকা আয় কোনওভাবেই এতটা কম নয় যে, বর্ধিত ভরণপোষণের নির্দেশ পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিচারপতি দিবাকর আরও স্পষ্ট করে বলেন, পারিবারিক কিছু দায়-দায়িত্ব থাকলেই স্বামীর মূল দায়িত্ব, আইনসম্মতভাবে বিবাহিত স্ত্রীর ভরণপোষণ নিশ্চিত করা, তা থেকে তিনি মুক্তি পেতে পারেন না।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন মূলত সামাজিক সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি। এর লক্ষ্য, স্ত্রী যাতে স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
নিজেদের পুনর্বিবেচনার সীমিত ক্ষমতার কথাও উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, পরিবার আদালতের নির্দেশে কোনও আইনি ত্রুটি বা অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে আবেদনকারীর পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা হয়।
এর কিছুদিন আগেই লিভ-ইন সংক্রান্ত দুটি উল্লেখযোগ্য মামলার পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একটি ছিল দুই ভিন্নধর্মের মানুষ এবং অপরটি ছিল বিবাহিত পুরুষের লিভ-ইন সম্পর্ক সংক্রান্ত।
আদালত জানায়, দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যারা নিজের ইচ্ছেয় একসঙ্গে সুখে আছে, তাঁদের ধর্মকে কোনও বিচারের মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, সংবিধান তাঁদের এই অন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের পক্ষেই রয়েছে এবং কোনওভাবেই তাদের মৌলিক অধিকার ভঙ্গ করা যাবে না।
আরেকটি মামলায় আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি প্রাপ্তবয়স্ক কোনও মহিলার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তা হলে সেটিকে অপরাধ হিসেবে দেখা যাবে না। আদালত আরও জানিয়েছিল, সামাজিক নীতি বা নৈতিকতা কোনওভাবেই আদালতের দায়িত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে না, বিশেষ করে যখন নাগরিকের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন ওঠে।