লখনউয়ে দলিত নেতা কাঁশি রাম-এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত সভা যেন হয়ে উঠল রাজনীতির মঞ্চ।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 October 2025 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লখনউয়ে দলিত নেতা কাঁশি রাম-এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত সভা যেন হয়ে উঠল রাজনীতির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার সেখানে বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) নেত্রী মায়াবতী (Mayawati) একদিকে যেমন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) প্রশংসা করলেন, অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদবকে (Akhilesh Yadav) আক্রমণ করলেন ‘দু-মুখো’ বলে।
মায়াবতী বলেন, “যোগীজিকে আমি চিঠি লিখেছিলাম, যাতে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টিকিটের অর্থ ওই স্মৃতি উদ্যান ও পার্কগুলির রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বিজেপি সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে। এই জন্য আমরা তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।”
বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা দলিত পার্ক বা স্মৃতি সৌধগুলির যত্ন নেয় না। এক পয়সাও খরচ করে না। কিন্তু ক্ষমতা হারালেই কাঁশি রামজির নামে সেমিনার করার কথা মনে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কাঁশি রামজি-সহ বহু মহান নেতার নামে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্প শুরু করেছিলাম। কিন্তু সমাজবাদী পার্টির সরকার সেগুলো বন্ধ করে দেয়। একে যদি দ্বিচারিতা না বলা যায়, তবে আর কী বলা হবে?”
অখিলেশ যাদবের উদ্দেশে মায়াবতীর কটাক্ষ, “যদি সত্যিই কাঁশি রামজিকে শ্রদ্ধা করতেন, তবে আলিগড় বিভাগের কাঁশি রাম নগর জেলার নাম পাল্টে আবার কাসগঞ্জ করতেন না।”
তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবাদী পার্টি শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতির জন্যই দলিত ও পিছিয়ে পড়া সমাজের নেতাদের ব্যবহার করে। মায়াবতীর কথায়, “ক্ষমতায় থাকলে তারা কখনও পিডিএ বা তাঁদের সঙ্গে যুক্ত সাধু-গুরুদের কথা মনে রাখে না। কিন্তু ক্ষমতা হারালেই হঠাৎ তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়। মানুষকে এমন দ্বিচারী লোকদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।”
মায়াবতীর উল্লেখ করা পিডিএ অর্থাৎ ‘পিছড়ে, দলিত, আল্পসংখক’ যা বিএসপি-র অন্যতম মূল রাজনৈতিক মন্ত্র। মায়াবতীর দাবি, এই সমাজকেই রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে রেখেছে অন্যান্য দলগুলি।