এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) গত শুক্রবার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, উড়ানের ঠিক ৯০ সেকেন্ড পর বিমানটির দুই ইঞ্জিন আচমকা বন্ধ হয়ে যায়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 13 July 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছরের সংকেত গোস্বামী। প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ খুললেন তাঁর বাবা অতুল গোস্বামী। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'এই রিপোর্টে আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই (Air India Plane Crash Victim's Father Demands Strict Action)। সরকারের কাছে অনুরোধ, সম্পূর্ণ তদন্ত করা হোক। দোষীদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।'
গত ১২ জুন আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এআই১৭১ বিমানটি (Flight AI171)। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে আছড়ে পড়ে। বিমানের ২৪১ যাত্রী-সহ ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সংকেতেরও।
সংকেতের বাবা আরও বলেন, 'আমার ছেলে তিন বছরের ডিগ্রি কোর্সের জন্য লন্ডনে যাচ্ছিল। ওর উপরই পুরো পরিবার নির্ভর করত। ওকে আমরা খুব আশা নিয়ে পাঠাচ্ছিলাম। এখন সেই আশাই শেষ হয়ে গেল। পরিবারের যা অবস্থা, বলা কঠিন। কিন্তু এই তদন্তে আমরা সন্তুষ্ট নই।'
এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) গত শুক্রবার যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, উড়ানের ঠিক ৯০ সেকেন্ড পর বিমানটির দুই ইঞ্জিন আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিমানের গতি হঠাৎ কমে যায় এবং দ্রুত উচ্চতা হারায়। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে র্যাম এয়ার টারবাইন (RAT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, কিন্তু তাতে গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।
এএআইবি-র প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমদাবাদ বিমানবন্দর (Ahmedabad Airport) থেকে টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লন্ডনগামী বিমানের দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচও একসঙ্গে বন্ধ (কাট অফ) হয়ে যায়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলটকে আরেকজনকে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায়, 'তুমি কেন বন্ধ করলে?', যার উত্তরে অন্যজন বলেন, 'আমি কিছু করিনি।'
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এএআইবি-র প্রাক্তন প্রধান বলেন, 'এই তদন্ত সহজ হবে না। বিমানটির প্রায় ৯০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে (Air India Plane Crash)। ফলে বহু তথ্য হয়তো খুঁজে পাওয়াই যাবে না। আর তদন্তকারীদের একে একে সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখতে হবে।'