ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র।

শেষ আপডেট: 19 June 2025 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সি এয়ার হোস্টেস লামনুনথিয়েম সিংসন-ও একজন। বৃহস্পতিবার তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র।
কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (KSO), কাংপোকপির তরফে জানানো হয়েছে, সিংসনের দেহ ডিমাপুর (নাগাল্যান্ড) বিমানবন্দর হয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ মণিপুরের কাংপোকপিতে নিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে মণিপুরের উত্তেজনাপূর্ণ মেইতেই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই কারণে পরিবার চায়নি যে ইম্ফলে দেহ হস্তান্তর করা হোক বা মেইতেই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কাংপোকপিতে আনা হোক।
KSO–র সাধারণ সম্পাদক কে শংগ্রেং জানিয়েছেন, 'ডিমাপুর বিমানবন্দর থেকেই আমরা দেহ গ্রহণ করব। পরিবার ও KSO–র প্রতিনিধিরা সকালেই রওনা দেবেন।'
উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ও প্রশাসনের প্রতিনিধি দল সোমবার ও মঙ্গলবার সিংসনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ইম্ফল থেকে কাংপোকপি পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যদি তাঁরা ইম্ফল বিমানবন্দরে দেহ নিতে চান। কিন্তু পরিবার তাতে রাজি হয়নি।
জানা গেছে, সিংসনের পরিবার আগে ইম্ফলের নিউ লাম্বুলানে এলাকায় থাকতেন। কিন্তু ২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতিগত হিংসা শুরু হলে তাঁরা কাংপোকপির পার্বত্য এলাকায় একপ্রকার পালিয়ে আসেন। একইভাবে মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষরাও পাহাড়ি এলাকা ছেড়ে উপত্যকায় চলে আসেন। এখন এই অঞ্চলগুলি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির নিয়ন্ত্রণে, কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু বাফার হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে, মণিপুরের আরেক বিমান সেবিকা এনগানথোই কে শর্মার পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত তাঁর ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। এনগানথোইয়ের বোন গীতাঞ্জলি জানান, 'আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করতে। আমাদের পরিবার এখনও অপেক্ষায়।'
এনগানথোই ছিলেন মেইতেই সম্প্রদায়ের, আর লামনুনথিয়েম ছিলেন কুকি-জো গোষ্ঠীর।
অন্যদিকে, আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এআই-১৭১ দুর্ঘটনায় নিহত কমপক্ষে ১৭০ জনের মৃতদেহ তাঁদের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০২ জনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।