মাত্র ২০ মাস পর, সেই ভবিষ্যৎ এখন তালাবন্দি এক ঘরের কোণে। বন্ধ ঘরে রাখা সেই ড্রোন এখন নীরব, এক অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রতীক।

এইমস ভোপাল
শেষ আপডেট: 7 November 2025 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এইমস ভোপালের (AIIMS Bhopal) আকাশে উড়েছিল এক নতুন আশার ডানা - চিকিৎসা পৌঁছে যাবে পাহাড়-জঙ্গলের গ্রামে গ্রামে, মিনিটের মধ্যে রোগীর কাছে পৌঁছবে ওষুধ। ১০ লাখ টাকার সেই ‘লাইফ-সেভিং’ ড্রোনকে (10 lakh drone) বলা হয়েছিল স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎ।
কিন্তু মাত্র ২০ মাস পর, সেই ভবিষ্যৎ এখন তালাবন্দি এক ঘরের কোণে। বন্ধ ঘরে রাখা সেই ড্রোন এখন নীরব, এক অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রতীক।
প্রথম উড়ানেই নজির গড়েছিল ড্রোনটি। এমস ভোপাল থেকে ৩৯ কিলোমিটার দূরের গওহরগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ পৌঁছে দিয়েছিল মাত্র ২০ মিনিটে। ফেরার পথে রোগীর রক্তের নমুনাও নিয়ে আসে। দেখানো হয়েছিল, স্বাস্থ্য পরিবহনে ভারতের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।
কিন্তু সেই শুরুই একপ্রকার শেষ। প্রতিশ্রুতি ছিল, সপ্তাহে পাঁচ দিন চলবে এই প্রকল্প। এখন নেই চালক, নেই রুটিন, নেই কোনও ব্যাখ্যা।
২০২৪ সালে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এক মহিলা কর্মী দুর্ঘটনায় আহত হন। সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দেখেন, ড্রোনটি আর ব্যবহার করা হয় না, প্রকল্পও বন্ধ।
এইমস ভোপালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট বিকাশ গুপ্তা জানালেন, “প্রকল্পটি বন্ধ হয়নি, শুধু স্থগিত। প্রথম ট্রায়াল সফল ছিল। ভবিষ্যতে আমরা আরও দূরের অঞ্চলে পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।”
তিনি জানান, এইমস ইতিমধ্যেই নতুন ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ তৈরি করেছে, যাতে উন্নত ড্রোন কোম্পানিগুলির সঙ্গে কাজ করা যায়। “বড় দূরত্বে এই পরিষেবা দিতে গেলে উন্নত ড্রোন দরকার, সময় লাগবে, কিন্তু কাজ চলছে,” বলেন ড. গুপ্তা।
তবে এই ‘বড় পরিকল্পনা’র ছায়া পড়েছে মানুষের বাস্তব দুর্ভোগে। হাসপাতালের দীর্ঘ সারি, দূরদূরান্ত থেকে আসা গরিব রোগীদের যন্ত্রণা এখনও একই রকম। বিশেষ কিছু পালটায়নি।
সাগর জেলার বাসিন্দা আদর্শ তিওয়ারি বলেন, “এই পরিষেবা চালু হলে অনেক সময় বাঁচত। এখন তিন ঘণ্টা ধরে এখানে ঘুরছি, রোগীকে নিয়ে আসা খুব কষ্টের।”
জহিদা খান জানান, “আমরা দুই দিন ধরে এখানে রয়েছি। ড্রোনে ওষুধ পৌঁছলে অনেক উপকার হত, সময় আর খরচ দুই-ই বাঁচত।”
ভোপালের বিবেক চৌধুরীর আক্ষেপ, “ভোর পাঁচটায় রওনা হয়ে এসেছি, সারাদিন বসে আছি। পরীক্ষার খরচও বেশি। যদি নিজের জেলায় ওষুধ পেতাম, অনেক সুবিধা হত।”
এক সময় ভারতের স্বাস্থ্য বিপ্লবের মুখ হয়ে উঠেছিল এইমস ভোপালের সেই ড্রোন প্রকল্প। আজ সেটা কেবলই একটা তালাবন্দি স্বপ্ন - যা নানা নিয়মের জটিলতায় হারিয়ে ফেলেছে দিশা।