প্রথমে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা হলেও, পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বসিয়ে রাখেন। কোথাও বসার জায়গা, বেডও ফাঁকা ছিল না বলে অভিযোগ।

ভিডিওর অংশ
শেষ আপডেট: 31 October 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষধর সাপে কামড়েছে (sanke bite), এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়ে রোগী বেড-ই পেলেন না (no bed in hospital)! বাধ্য হয়ে নিজের গাড়িতেই হাতে স্যালাইন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে রইলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার (Malda) চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে (Malda Harishchandrapur hospital negligence)। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয়রা।
ওই রোগীর এক আত্মীয়ের তোলা ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল) ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আরও চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন রোগীর দাদা, আইনজীবী ওয়াসিম আক্রম, নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক তাজমুল হোসেনকে সরাসরি চাঁচাছোলা আক্রমণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের সোনাকুল এলাকার এক যুবককে বিষধর সাপে কামড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে দাদা ওয়াসিম আক্রম তাঁকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা হলেও, পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে বসিয়ে রাখেন। কিন্তু কোথাও বসার জায়গা ছিল না, এমনকী একটি বেডও ফাঁকা ছিল না। হাসপাতালে চারপাশে ঘুরছিল ছাগল-কুকুর, এমন অভিযোগও করেন ওয়াসিম।
অবশেষে স্যালাইন লাগানো অবস্থাতেই ভাইকে গাড়িতে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় লাইভ ভিডিও, যেখানে তিনি হাসপাতালের দুরবস্থা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওয়াসিম আক্রম, যিনি পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
তাঁর বক্তব্য, “সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দেখেননি। স্বাস্থ্যকর্মীরা শুধু স্যালাইন দিয়ে বসতে বলেন, কিন্তু বেড বা চেয়ার কিছুই ছিল না। শেষ পর্যন্ত গাড়িতেই ভাইকে শুইয়ে চিকিৎসা চালাই। সরকারি হাসপাতালের এই অবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ অপমানজনক।”
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের এমন দুরবস্থা নতুন নয়। চারপাশে ছাগল-গরুর আনাগোনা, বাউন্ডারি নেই, আবর্জনায় ভরা হাসপাতাল চত্বর - তবুও নড়েচড়ে বসেনি প্রশাসন।
অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন জানান, রাজ্য সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছে। কোনও ঘাটতি নেই। কিছু বিভ্রান্ত মানুষ ইচ্ছে করে এসব বানানো গল্প ছড়াচ্ছে প্রশাসনকে কলঙ্কিত করার জন্য।
অন্যদিকে, মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. সুদীপ্ত ভাদুড়ি জানিয়েছেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।”